সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া
সিলেটে লন্ডনগামী যাত্রীরা হয়রানীর শিকার
কর্মকর্তার নাম আব্দুস সালাম। তিনি সিলেট ওসমানী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে কর্মরত এক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। বিদেশগামী যাত্রীদের হয়রানী করা যার নিত্যদিনের স্বভাব। আজ ১৮ জুলাই শুক্রবার সিলেট টু লন্ডন হিথ্রুগামী এক যাত্রীর সঙ্গে তার অশুভ আচরন দেখে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। আমার ছোটবোন স্বল্পকালীন অবকাশ যাপনে ইংল্যান্ডে আসবে। যথনিয়মে এয়ারপোর্টে এসে পড়ল এক বিড়ম্বনায়। ইমিগ্রেশন পুলিশ দেখল সবকিছু ঠিকঠাক। কিন্তু কেন যেন মেনে নিতে পারছে না। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম নানা প্রশ্নবানে যাত্রীকে হেনস্থা করা শুরু করলেন।
নিজের আত্মীয়ের সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা ফেসবুক পোস্টে শেয়ার করেন সিসিকের ১৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এ বিএম জিল্লুর রহমান। তাঁর এই পোস্ট দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ লাইন। যারা অনেকেই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আব্দুস সালামের রোষানলে পড়েছেন। এর আগে এ বিষয়ে দীর্ঘ একটি লেখা নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন Linu Farzana। অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি এবিএম জিল্লুর রহমান Linu Farzana নামের এই আইডি;র লেখাটি শেয়ার করেন। সেখানে জিল্লুর রহমান আবদুস সালামের নাম উল্লেখ করে লিখেন এই সেই বিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অফিসার যিনি লন্ডনগামী যাত্রীকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হয়রানি করেছেন। উক্ত অফিসারের দাবি লন্ডনের ভিজিট ভিসা ইস্যু হলেই হবেনা, যিনি স্পনসর দিয়েছেন তার জন্মনিবন্ধন বা এন আই ডি থাকতে হবে। ভাইবোন সম্পর্কের প্রমাণ দাখিল না করলে ইমিগ্রেশন পার হতে দিবেন না।
ফেসবুকে Linu Farzana এর পোস্ট হুবুহ
প্রসঙ্গঃ বিদেশযাত্রীদের ইমিগ্রেশন বিড়ম্বনা
একটা দেশের ভিসা অফিস ভিসা ইস্যু করার আগে ভিসা প্রার্থী ও স্পনসর দাতার যাবতীয় তথ্যাদি পূঙ্খানুপুঙ্খ পরিক্ষা করে। ভিসা প্রার্থীর সাথে স্পনসর দাতার সম্পর্ক কি, তাদের বাপের নাম, মায়ের নাম চৌদ্দগুষ্টির ঠিকুজি দেখে তারপরে ভিসা দেয়। পেপার পছন্দ না হলে কিংবা সন্দেহ হলে আবার মেইল দিয়ে আপডেটেড পেপার কিংবা পেপারের ব্যাখ্যা চায়। সব ঠিকঠাক থাকলে ভিসা দিলেতো ওয়েল এন্ড গুড, না দিলেও কিচ্ছু করার নাই। আলহামদুলিল্লাহ ফর এভ্রিথিং। আল্লাহ ইজ দ্যা বেস্ট প্লানার।
দীর্ঘ সময় নিয়ে গাট্টি গুট্টি বেধে, খেশ কুটুমের জন্য ভালোবাসা ও উপাহারাদি নিয়ে নিজেকে জুইত জাইত করে যখন ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়াবেন তখনই শুরু হয় আসল বিড়ম্বনা। "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি" মানুষের এই আবেগকে নিকুচি করে যাত্রার মূহুর্তেই ইমিগ্রেশন বিভাগের শাখামৃগরা শুরু করে নানা হয়রানি।
বলছিলাম সিলেট ওসমানী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন বিভাগের কথা। যাত্রামূহুর্তে লন্ডনগামী যাত্রীদের ফালতু প্রশ্ন করে, উল্টাপাল্টা কাগজ চেয়ে নাকানিচুবানি খাইয়ে তারা কেন যে পৈশাচিক আনন্দ লাভ করে, তা আমার বুঝে আসেনা। আমার বড় ভাইয়ের ইনভাইটেশন লেটারে ইতিমধ্যে পরিবারের অনেকেই ইউ কে তে সংক্ষিপ্ত সফর সম্পন্ন করেছি। আজ একই ব্যাক্তির ইনভাইটেশনে পরিবারের আরেক সদস্য যাচ্ছেন ইউকে।
আমাদের আজব দেশের আজব ইমিগ্রেশন। বিশ্বের আর কোথাও এমন তিবিটলামি দেখা যায়না। আগের সদস্যদের কাছে যে কাগজ চাওয়া হয়নি আজ ওরা চেয়ে বসে সেই কাগজ। সেইসাথে দুনিয়ার হয়রানি, উনি যে আপনার ভাই তার প্রমাণ দেখান।
সাথে থাকা পাসপোর্টের কপিসহ আনুষাঙ্গিক কোন কিছুতেই তাদের মন ভরেনা। কারণ ওগুলোতে পিতামাতার নাম নেই।এখন লাগবে তাদের ভাইয়ের জন্মনিবন্ধন, এন আই ডি।
ভাইজান চল্লিশ বছরের বেশি সময় থেকে দেশের বাইরে। এই দেশের জন্মনিবন্ধন ,এন আই ডি কিছুই নাই। গুণধর ইমিগ্রেশন অফিসার বিষয়টা বুঝেই জাল পেতেছেন।পশ্চিমের দেশে তখন গভীর রাত। এই অসময়ে দেশ থেকে ফোন করে এই ধরনের উদ্ভট সমস্যার কথা বলে কাগজ চাওয়া কি পরিমাণ অস্বস্তির তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। নিরূপায় হয়ে অবশেষে ফোন দিতেই হলো।
দীর্ঘ তিন ঘন্টার দরকষাকষির পর এক ফোনেই সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু ইত্যবসরে একজন বিদেশগামী যাত্রীর উপর দিয়ে যে ট্রমা বয়ে গেলো তার হিসেব দিবে কে?
মানুষকে হুদাই হয়রানি করার কারণে এই শয়তানরূপী ইমিগ্রেশন অফিসারদের বিরুদ্ধে কি কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়না?
এদের বিরুদ্ধে কি কোন অভিযোগ দায়ের করা যায় না?
যাই হউক, নিকটাত্মীয় কিংবা ঘনিষ্ঠজনের হাই প্রোফাইল না থাকলে কি মানুষজন পদে পদে অমন ভোগান্তিতে পড়বে? স্বাধীন দেশের নাগরিকদের সব সময় কি হাই প্রোফাইল মামা চাচার আইডেন্টিটি বহন করতে হবে? উপরের স্তরের ফোন পেয়ে তথাকথিত সিলেটি বিদ্বেষি ইমিগ্রেশন অফিসারের চেহারা নাকি দেখার মতো হয়েছিলো।আমার দেখার সৌভাগ্য হয়নি, নইলে উনার ইদুর মুখের ছবি দিয়েই পোস্ট দিতাম।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: