লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে সুনামগঞ্জের ১০ যুবক জিম্মি
ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে বাড়ি ছেড়েছিলেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন যুবক। মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জনপ্রতি ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা বিদেশ যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু ইতালি পৌঁছানো তো দূরের কথা, বর্তমানে তাদের অধিকাংশই উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া এর রাজধানী ত্রিপলিতে একটি মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে আছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, ১৩ জনের এই দলের মধ্যে ১২ জন গত প্রায় ১২ দিন ধরে জিম্মি অবস্থায় আছেন। অপর একজন বর্তমানে লিবিয়ার পুলিশের হাতে আটক। জিম্মিকারীরা তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের দেখাচ্ছে এবং জনপ্রতি ২৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। পরে দরকষাকষির পর ১২ লাখ টাকা করে দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
জানা গেছে, জিম্মি থাকা যুবকদের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের নাজিমনগর গ্রামে। অন্যরা উপজেলার তেলিয়াপাড়া ও সাচনা এলাকা এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা।
স্বজনদের ভাষ্য, গত ২৮ জানুয়ারি ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন তারা। প্রথমে তাদের সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি নেওয়া হয়। পরে কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সাগরপথে ইতালি পাঠানোর আগে একটি চক্র তাদের জিম্মি করে ফেলে।
জিম্মি যুবকদের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন দালালের মাধ্যমে তাদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জনপ্রতি ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও তারা ইতালি পৌঁছাতে পারেননি। এখন জিম্মিকারীরা বাংলা ভাষাভাষী লোক দিয়ে ফোন করিয়ে বিকাশে টাকা পাঠাতে বলছে।
জিম্মি সফিকুল ইসলামের বাবা রাশিদ আলী বলেন, জায়গা-জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। এখন ছেলের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করাও তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় আসেনি। কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকুন নুর বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: