মৌলভীবাজার জেলা হাসপাতালে ওষুধ কেলেঙ্কারি: রোববার তদন্ত কমিটি গঠন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ফেসবুক পোস্টে মৌলভীবাজারের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালকে ঘিরে বৃহৎ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর জেলায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
পোস্টে দাবি করা হয়েছে, হাসপাতালের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন—এক হাজার বক্স মন্টিলুকাস্ট-১০ (Montelukast 10 mg) ট্যাবলেট একদিনেই শেষ হয়ে যেতে পারে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এত বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ কীভাবে দ্রুত শেষ হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নকল স্লিপ ও প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে সরকারি ওষুধ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, এবং নিয়মিতভাবে নিম্নলিখিত ওষুধের নাম উল্লেখ থাকে: Montelukast 10 mg, Fexofenadine 120 mg, Esomeprazole 20 mg, Paracetamol 500 mg, বিভিন্ন ভিটামিন ট্যাবলেট ও সিরাপ, Calcium Tablet ও Histacin Tablet।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, কিছু অসাধু কর্মচারী এবং মৌলভীবাজার মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (MATS) শিক্ষানবিশরা নকল স্লিপের মাধ্যমে সরকারি ওষুধ বাইরে পাচার করছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাসায় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা হয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ সদস্য এবং কিছু সাংবাদিকেরও। মৌলভীবাজার-৩ আসনের এক ব্যক্তির নামও তালিকায় আছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. প্রণয় কান্তি দাশ বলেন, বিষয়টি তিনি অনলাইনে দেখেছেন। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার থাকবেন। অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।
স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন, হাসপাতালের অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিছু রোগী দাবি করেছেন, হাসপাতালের ভেতরে বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির কারণে ওষুধ সরবরাহ, আউটসোর্সিং ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি চলছে।
অন্য এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসক ও নার্সদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ভাইরাল পোস্টের পর জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনায় আদৌ কতটা জবাবদিহিতা রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: