যোগ দিবেন নিজ এলাকার ভোট উৎসবে
সিলেট ছাড়ছেন হাজার হাজার মানুষ
নির্বাচনের মাত্র একদিন বাকি। শহরের ব্যস্ততা মাঝরাতের মতোই জমে উঠেছে, কিন্তু সিলেটের মানুষ এখন গ্রামে ছুটছেন ভোট দিতে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই সিলেট-মৌলভীবাজার, সিলেট-সুনামগঞ্জ ও সিলেট-কোচবিহার সড়কে ঘরমুখী মানুষের ভিড় লেগে আছে। একসঙ্গে এত মানুষ গ্রামে ফিরায় যানবাহনের চাপ অত্যধিক, সড়কগুলো পরিণত হয়েছে ঘন জ্যামের কল্পনায়।
শ্রমিক থেকে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক থেকে ব্যবসায়ী—সকলেই নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে তাড়াহুড়ো করছেন। সরকার শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করায় কারখানা ও প্রতিষ্ঠান থেকে আগে থেকেই কাজ শেষ করে গ্রামের পথে ফিরছেন শ্রমজীবীরা। এই ভিড়ের মধ্যে প্রতিটি যাত্রী যেন নিজের হাতে ভোটের অধিকার পূর্ণ করতে ছুটছে।
তবে ঘরমুখী মানুষের এই উত্তেজনা ও আশায় মিশেছে আরেকটি বাস্তব সমস্যা—দীর্ঘ যানজট। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বাস, মাইক্রোবাস এবং প্রাইভেট গাড়ির সারি যেন এক দীর্ঘ নদীর মতো। যাত্রীদের অভিযোগ, ভিড়ের সুযোগে বাস ও মাইক্রোবাস মালিকরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। দক্ষিণ সুরমার পোশাকশ্রমিক হান্নান বলেন, “ভোট দিতে গ্রামে যাচ্ছি, কিন্তু বাসের ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে ভোটের জন্য এই দুর্ভোগ মেনে নিতে হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্বে সব সদস্য ব্যস্ত থাকায় সড়কে পর্যাপ্ত পুলিশ নেই। ফলে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক করতে সাধারণ মানুষের ধৈর্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু এসব দুর্ভোগ, ট্রাফিক জট বা বাড়তি খরচ ভোটারদের উৎসাহকে কমাতে পারেনি। প্রত্যেক যাত্রী যেন নতুন উদ্দীপনায় ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ছুটছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে ভোটের আগের এই দিনগুলোতে সিলেটের মানুষকে ঘরমুখী হতে দেখলে বোঝা যায়, দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং ব্যক্তিগত উৎসাহ মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক চঞ্চল উত্তেজনার পরিবেশ।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: