হাওরপাড়ে নতুন দিগন্ত : নির্মাণ হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক
Led Bottom Ad

হাওরপাড়ে নতুন দিগন্ত : নির্মাণ হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

৩০/০১/২০২৬ ১৬:১০:৩৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার যাতায়াত সহজ করতে হাওরাঞ্চলের বুক চিরে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন একটি সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। মদনপুর–দিরাই–শাল্লা–আজমিরীগঞ্জ–সরাইল হয়ে প্রস্তাবিত এই বিকল্প সড়ক চালু হলে দূরত্ব কমবে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। এতে যাতায়াতের সময় অর্ধেকে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় দিরাই থেকে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ১৯টি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দিরাই–শাল্লা–আজমিরীগঞ্জ অংশে অধিকাংশ সড়ক দৃশ্যমান হয়েছে। ১৪টির বেশি সেতুর কাজও শেষের পথে।


সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফুল হামিদ বলেন, দুটি প্রকল্পের আওতায় কাজ চলছে। শাল্লা উপজেলার জলশুকা অংশে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং দিরাই–শাল্লা অংশে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।


২০২২–২৩ অর্থবছরে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে কাজের গতি কিছুটা কমে যায়। হাওরাঞ্চলে বছরে মাত্র চার থেকে পাঁচ মাস কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। এসব কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করা সম্ভব হয়নি। মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।


হাওরের পরিবেশ রক্ষা ও বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান প্রকৌশলী আশরাফুল হামিদ। তিনি বলেন, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কালভার্ট ও ক্রস ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।


নতুন সড়ক চালু হলে শাল্লা ও দিরাই উপজেলার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বর্তমানে ঢাকা যেতে যেখানে সাত থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে নতুন সড়ক ব্যবহার করলে চার ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছানো সম্ভব হবে।


কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোবাশ্বির আলী বলেন, ধান ও মাছ দ্রুত ঢাকায় পাঠানো গেলে পচনশীল পণ্যের ক্ষতি কমবে। বাজারমূল্যও পাওয়া যাবে ন্যায্য।


যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে সড়কের দুই পাশে নতুন ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে উঠবে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা স্থানীয়দের। হাওরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই সড়ক ভবিষ্যতে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করবে।


এলাকাবাসীর মতে, এটি শুধু একটি সড়ক নয়—হাওরবাসীর জীবন ও জীবিকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন।

প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad