বার্ড ফ্লু ও রানীক্ষেতে স্বপ্নের মৃত্যু
পোল্ট্রি খামারে ১৩ লাখ টাকা হারিয়ে নিঃস্ব মৌলভীবাজারের জনি
উদ্যোক্তা হওয়ার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে পোলট্রি খামার শুরু করেছিলেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের জনি দেবনাথ। কিন্তু ভাগ্য যেন কিছুতেই সহায় হচ্ছে না। বার্ড ফ্লু ও রানীক্ষেত রোগের থাবায় দুই দফায় সব মুরগি মারা যাওয়ায় ১৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব।
টিকরিয়া খন্দকারপুর গ্রামের বাসিন্দা জনি দেবনাথ ২০২৩ সালে শুরু করেন ‘জনি এগ্রো ফার্ম’। শুরুতে বাবার জমি বিক্রির টাকা দিয়ে টাইগার মুরগির খামার গড়ে তোলেন। কিন্তু পাঁচ মাসের মাথায় বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে সব মুরগি মারা গেলে তার প্রথম দফায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
ভেঙে না পড়ে ঘুরে দাঁড়াতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নেন জনি। এমনকি মায়ের গলার স্বর্ণ বন্ধক রেখে আবারও ৫০০ মুরগির নতুন খামার শুরু করেন। দীর্ঘ আট মাস পরিচর্যার পর মুরগিগুলো যখন ডিম পাড়ার উপযোগী হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই আঘাত হানে ‘রানীক্ষেত’ রোগ। চোখের সামনেই মরে শেষ হয়ে যায় সব মুরগি। এতে খামার স্থাপন, খাদ্য ও ওষুধ মিলিয়ে তার মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
বর্তমানে ঋণের বোঝা আর পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে জনির। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "খামারের সব মুরগি মারা যাওয়ায় আমি পুরোপুরি পথে বসে গেছি। সব হারিয়ে আমি আজ সর্বস্বান্ত। ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব আর পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেটাই বুঝতে পারছি না। তবে আমি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে চাই। এজন্য সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রার্থনা করছি।"
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. সম্পদ সিংহ বলেন, "জনি দেবনাথের খামারের মুরগিগুলো দ্রুত সংক্রামক রানীক্ষেত রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। আমরা চিকিৎসা ও পরামর্শ দিলেও শেষ পর্যন্ত মুরগিগুলো বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আমরা সবসময় খামারিদের সময়মতো টিকা প্রদান ও আক্রান্ত মুরগি দ্রুত আলাদা করার পরামর্শ দিয়ে থাকি।"
এ রহমান
মন্তব্য করুন: