সারা দেশে ৬ হাজার ৭৪৮ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ৬ হাজার ৭৪৮টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পেশিশক্তির প্রভাব, থানা থেকে দূরত্ব, দুর্গম এলাকা, বাম চরমপন্থি গ্রুপের উপস্থিতি, নির্দিষ্ট দলের একচ্ছত্র ভোট, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের অকার্যকারিতা—এসব কারণে এসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের তালিকায় ঢাকা বিভাগ ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো অধিক সংখ্যায় রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর স্মৃতি থাকায় এবার স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে।
আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতোই থাকবে। নির্বাচনে যারা পেশিশক্তি ব্যবহার করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে; কোনো ছাড় থাকবে না।”
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার ২ হাজার ১১৫টি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার ৮১৩টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া ডিএমপি এলাকায় ৮৫৩টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এসব কেন্দ্রে আগে থেকেই রেকি শুরু করা হয়েছে এবং প্রভাব বিস্তারকারী সন্দেহভাজনদের তালিকা করা হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা দেয়া হবে, যাতে কোনো অনিয়ম হলে তা রেকর্ড থাকে।
গুজব রোধে সাইবার টিম সচল
পুলিশ গুজবকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব রোধে সাইবার টিম সক্রিয় থাকবে। গুজব ছড়ালে দ্রুত পাল্টা তথ্য দিয়ে প্রতিকার করা হবে এবং গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা
নির্বাচনের নিরাপত্তায় খোয়া যাওয়া ১ হাজার ৩৪০টি অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হবে। যারা অস্ত্র উদ্ধার করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশের পরিকল্পনায় রয়েছে, নির্বাচনের আগে জেলা পুলিশের এসপিদের মাধ্যমে প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে সুষ্ঠু ভোটের সহযোগিতা চাওয়া এবং ভোটকেন্দ্রে অশান্তি হলে দ্রুত পুলিশ-প্রার্থীর সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: