শ্রীমঙ্গলে কনকনে শীত, গরম কাপড়ের বাজারে ক্রেতার ভিড়
পৌষ মাস শেষে শুরু হয়েছে মাঘ। প্রকৃতিতে নেমে এসেছে শীতের কনকনে আমেজ। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলেও জেঁকে বসেছে শীত। কনকনে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে গরম কাপড় কিনতে শ্রীমঙ্গল শহরের খুচরা ও পাইকারি বাজারে ভিড় করছেন স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের জেলা থেকে আসা ক্রেতারা।
জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক শহর শ্রীমঙ্গল। এখান থেকে পাইকারি ও খুচরা—দুইভাবেই নানা ধরনের পণ্য কেনাবেচা হয়। শীত মৌসুম এলেই শহরের শত শত কাপড়ের দোকান ও ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে গরম কাপড়ে ভরে ওঠে। এসব দোকান থেকে জেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা পাইকারি কাপড় কিনে নিয়ে গিয়ে খুচরা বিক্রি করেন।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও শীত মৌসুমে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। চলতি শীতে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সাধারণত তাপমাত্রা ৮ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়।
সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম কাপড়ের চাহিদাও বেড়েছে। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকার মধ্যেই মিলছে আরামদায়ক গরম কাপড়। নারী-পুরুষ ও শিশু—সব বয়সী মানুষের জন্য সোয়েটার, জ্যাকেট, প্যান্টসহ নানা ধরনের শীতবস্ত্র বিক্রি হচ্ছে। কাপড়ের স্তূপ থেকে পছন্দের কাপড় বেছে নিয়ে দরদাম করে কিনছেন ক্রেতারা। স্বল্পমূল্যে গরম কাপড় পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন অনেকেই।
খুচরা গরম কাপড়ের ব্যবসায়ীরা জানান, শীত মৌসুম শুরুর আগেই তারা চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা ও ঢাকা থেকে বড় বড় গাট্টিতে কাপড় কিনে আনেন। একেকটি গাট্টির দাম ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২৫-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। কাপড়ের মান ভালো হলে দামও কিছুটা বেশি হয়। এসব গাট্টিতে জ্যাকেট, সোয়েটার, প্যান্টসহ বিভিন্ন ডিজাইনের শীতবস্ত্র থাকে। এখান থেকে অনেক ব্যবসায়ী পাইকারি কাপড় কিনে গ্রামের হাট-বাজারে খুচরা বিক্রি করেন। শীত এলেই শ্রীমঙ্গলে যেন গরম কাপড়ের এক ধরনের মেলা বসে।
নিম্ন আয়ের ক্রেতারা জানান, শ্রীমঙ্গল গরম কাপড়ের জন্য বরাবরই পরিচিত। কম দামে ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায় বলে তারা এখানেই আসেন। দিনমজুর রাজু নাইডু ও মিটু আহমেদ বলেন, “আমরা শপিং মল থেকে কাপড় কিনতে পারি না। শীত বেশি পড়ায় এবার বাধ্য হয়ে গরম কাপড় কিনতে হয়েছে। কম দামে কাপড় পাওয়া যায় বলে শ্রীমঙ্গলে এসেছি।”
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহ শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। প্রতি বছরই এই অঞ্চলে শীত ও কুয়াশার প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: