নবান্ন ও পৌষ সংক্রান্তিতে উৎসবমুখর মৌলভীবাজারের গ্রামাঞ্চল
নতুন ধান ঘরে উঠেছে। আর তাতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামাঞ্চলের গৃহিণীরা। ধান সেদ্ধ করা, শুকানো ও চাল তৈরি—এসব কাজে এখন ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ। এই নতুন চাল দিয়েই তৈরি হচ্ছে পৌষ পার্বণের মুখরোচক নানা পিঠাপুলি।
বারো মাসে তেরো পার্বণের দেশ বাংলায় নবান্ন ও পৌষ সংক্রান্তি বাঙালির কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের এক প্রাণের উৎসব। পৌষ মাসের শেষ দিনে আয়োজিত এ উৎসবে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পিঠা তৈরির আনন্দে মাতেন গৃহিণীরা, আর পরিজন ও প্রতিবেশীরা মিলেমিশে ভাগ করে নেন উৎসবের আনন্দ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর থেকেই মৌলভীবাজারের গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের রং। নবান্ন ও পৌষ সংক্রান্তিকে ঘিরে এ উৎসব পরিণত হয় এক সর্বজনীন আয়োজনে।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, এই দিনটিতে শহরের অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হয়ে নবান্ন ও পৌষ সংক্রান্তির আনন্দ উপভোগ করেন। বিভিন্ন বাড়িতে পিঠাপুলি খাওয়ার জন্য আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়।
নতুন চালের মিহিদানার মালপুয়া, পাটিসাপটা, সেদ্ধ পিঠা, আখের রসের লালিগুড়ের মিষ্টান্ন, খেজুরের রসের জুড়ি গুড়ের চোঙ্গাপিঠা, গরুর দুধের দুধপুলি—নতুন আলু, নারিকেলসহ নানা উপকরণে তৈরি হয় পৌষ পার্বণের ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলি।
স্কুলছাত্রী তনুশ্রী ও তমালিকা জানায়, “এই সময়টা আমাদের জন্য খুব আনন্দের। সংক্রান্তিতে আমরা শহর থেকে গ্রামে যাই। বড়রা ব্যস্ত থাকেন নানা আয়োজন নিয়ে, আর আমরা মেতে উঠি হাসি-আনন্দ আর হইহুল্লোড়ে। সবাই মিলে কত রকমের পিঠাপুলি খাই।”
ব্যবসায়ী শশাঙ্ক পাল বলেন, “নবান্ন ও পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে নানা পিঠাপুলির আয়োজন করেছি। সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে দাওয়াত দিই। সবাই মিলে একসঙ্গে সর্বজনীন উৎসব উদযাপন করি।”
সংস্কৃতিকর্মী আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, “বাঙালির কৃষিভিত্তিক কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নবান্ন ও পৌষ সংক্রান্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিবছরই একাধিক পরিবার থেকে দাওয়াত পাই। সপরিবারে এই উৎসবে অংশ নিই।”
লেখক ও শিক্ষক জাহাঙ্গীর জয়েস জানান, প্রাণবন্ত এই উৎসবে যোগ দিতে প্রতিবছরই শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। তিনি বলেন, “পৌষ পার্বণের পিঠাপুলির স্বাদ ও আনন্দ অন্যরকম।”
এদিকে পৌষ সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব ঘিরে মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। স্থানীয় গৃহকর্তারা জানান, পিঠাপুলির পাশাপাশি বড় বড় মাছ কেনা হয় এ সময়। সংক্রান্তির আগের রাতে বাজার থেকে মাছ কিনে সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়ার আনন্দই এই উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: