হাওর-নদীর মাছের সমাহারে উৎসবমুখর বাজার
শ্রীমঙ্গলে শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা
হাওর ও নদীর বিপুল মাছের সমাহারে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। প্রতি বছর পৌষের শেষ ও মাঘের শুরুতে আয়োজিত এই মেলা শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজার মাছ বাজার এলাকাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের জন্য এক আনন্দঘন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
মেলা উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকেই মাছ বাজার এলাকায় ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাজারজুড়ে হাওর ও নদীর নানা প্রজাতির বড় ও ছোট মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
মেলায় বোয়াল, চিতল, আইড়, রুপচাঁদা, বড় চিংড়ি, কালিয়ারা, রুই-কাতলা, মৃগেল, ইলিশসহ নানা জাতের তরতাজা মাছের সমাহার দেখা গেছে। বিশেষ করে বিশাল আকৃতির মাছগুলোই মেলার প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। এসব মাছ দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন।
মাছ কেনা-বেচার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা বড় মাছ দেখে আনন্দ উপভোগ করছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছেন। ফলে পুরো মাছ বাজার এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নিয়েছে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের কুশিয়ারা ও সুরমা নদী, হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর, শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর ছাড়াও শেরপুর, হবিগঞ্জ, ঢাকা ও ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত মাছ নিয়ে ব্যবসায়ীরা এই মেলায় অংশ নিয়েছেন। রাত গভীর পর্যন্ত মাছের বেচা-কেনা চলবে বলেও জানান তারা।
আয়োজকরা আরও জানান, দিনব্যাপী এই মাছের মেলাকে ঘিরে বিপুল পরিমাণ মাছ কেনা-বেচার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসা যেমন চাঙা হচ্ছে, তেমনি শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাছের মেলাটি এখন শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; বরং এটি শ্রীমঙ্গলের একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। সব মিলিয়ে দিনব্যাপী এই মাছের মেলা স্থানীয় মানুষের আনন্দ ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: