৫৬ বছর পর কুলাউড়া সরকারি কলেজে পুনর্মিলনীতে মিলনমেলা
Led Bottom Ad

আবেগ আর আনন্দে ভাসলো কুলাউড়া সরকারি কলেজ

৫৬ বছর পর কুলাউড়া সরকারি কলেজে পুনর্মিলনীতে মিলনমেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলাউড়া

১১/০১/২০২৬ ২০:১৯:৫৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ কুলাউড়া সরকারি কলেজে ৫৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। স্মৃতি, আবেগ আর প্রাণের উচ্ছ্বাসে দিনব্যাপী এ আয়োজন রূপ নেয় এক অনন্য মিলনমেলায়।




শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল থেকে কলেজ প্রাঙ্গণে নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কুলাউড়া সরকারি কলেজের আয়োজনে কয়েক শতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এ উৎসব।




সকাল ১১টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খান। উদ্বোধনের মুহূর্তেই আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল।




সাড়ে ১১টায় কলেজের প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন নির্মাল্য মিত্র সুমন এবং তাদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন শিক্ষক মো. জমসেদ খান। কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষের অবসর উপলক্ষে মানপত্র পাঠ করেন সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল হক ফজলু।




অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সুফিয়ান আহমদ ও যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম মিন্টু-র সঞ্চালনায় দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয় স্মৃতিচারণ পর্ব। একে একে মঞ্চে উঠে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ফিরে যান ফেলে আসা তারুণ্যের দিনগুলোতে। স্মৃতিচারণে অংশ নেন খন্দকার লুৎফুর রহমান, সৈয়দ মুহিবুর রহমান, শওকতুল ইসলাম শকু, হাবিবুর রহমান টুটু, খন্দকার আব্দুস সোবহান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ১৯৯৫ ব্যাচ ইফতেখারুল হক পপলুসহ বিভিন্ন ব্যাচের অসংখ্য শিক্ষার্থী।




সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। ব্যাচভিত্তিক গ্রুপ ছবি তোলা, সহপাঠীদের জড়িয়ে ধরা, কুশল বিনিময়, হাসি-আনন্দ আর চোখের কোণে জমে ওঠা জল—সব মিলিয়ে কলেজ প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আবেগের এক জীবন্ত ক্যানভাস। কেউ ব্যস্ত সেলফি তুলতে, কেউ দল বেঁধে গান গাইতে, আবার কেউ নিঃশব্দে হাঁটছেন স্মৃতির অলিগলিতে।




দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ফিরে যান শেকড়ের টানে। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে যেন সময়ের কাঁটা উল্টো ঘুরে যায়—হাত ধরে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরে ফিরে পান হারানো দিনগুলো।




বিকেল ৩টায় কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানকে অবসরজনিত মানপত্র ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়। তৃতীয় অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্যালয়ের নৃত্য পরিবেশনা এবং কনসার্টে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল এ্যাসেজ (জুনায়েদ ইভান) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড দল স্মরুপ দর্শকদের মুগ্ধ করে।




সবশেষে বলা যায়, ৫৬ বছর পর আয়োজিত এ পুনর্মিলনী শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি ছিল স্মৃতি, ভালোবাসা আর শেকড়ে ফেরার এক আবেগঘন উৎসব, যা কুলাউড়া সরকারি কলেজের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ইফতেখারুল হক পপলু

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad