শ্রীমঙ্গলে এক বছরে লোকালয় থেকে ৬৭ বন্যপ্রাণী উদ্ধার
আবাসস্থল ধ্বংস ও খাদ্য সংকটের কারণে বন্যপ্রাণীরা ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। বনাঞ্চল উজাড়, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ ও মানুষের অবাধ বিচরণ বন্যপ্রাণীদের জীবনকে করে তুলেছে অনিরাপদ। এরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি মিলেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। গত এক বছরে উপজেলার বিভিন্ন লোকালয় থেকে ৬৭টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ, আহত ও বিপদগ্রস্ত অবস্থায় এসব বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাণীগুলো উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে ২৩টি অজগর সাপ, ৯টি লজ্জাবতী বানর, ৬টি গন্ধগোকুল, ৪টি বনবিড়াল, ৪টি শঙ্খচিল, ৩টি বেত আঁচড়া সাপ, ২টি দাঁড়াশ সাপ ও ২টি সবুজ ফণীমনসা সাপ। এছাড়াও বেজি, লক্ষ্মীপেঁচা, নীলকণ্ঠ পাখি, ভুবন চিল, শিয়াল, ভোঁদড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন কুমার দেব সজল বলেন, বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছপালা ও ঝোপঝাড় ধ্বংসের ফলে বন্যপ্রাণীরা তীব্র খাদ্য ও নিরাপত্তা সংকটে পড়ছে। বনভূমিতে মানুষের অবাধ প্রবেশ, জঙ্গল কেটে চাষাবাদ, বসতবাড়ি ও রিসোর্ট নির্মাণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে প্রাণীরা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে খাদ্যের সন্ধানে চলে আসছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেলে উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীগুলো প্রথমে ফাউন্ডেশনে এনে চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেগুলো নিরাপদ বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, বন্যপ্রাণী রক্ষা শুধু সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। স্থানীয়দের সচেতনতার কারণেই উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণীদের ভূমিকা অপরিসীম। বন ও পরিবেশ ধ্বংস চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এসব প্রাণী হারিয়ে যাবে। উদ্ধার কার্যক্রম শুধু প্রাণ রক্ষাই নয়, মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পরিবেশবিদদের মতে, মানুষের দখল ও অব্যবস্থাপনায় প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসছে। টেকসই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন সংরক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: