তীব্র শীতে মৌলভীবাজারে বোরো বীজতলা ও রবি শস্যে ছত্রাকের আক্রমণ
Led Bottom Ad

দুশ্চিন্তায় কৃষক

তীব্র শীতে মৌলভীবাজারে বোরো বীজতলা ও রবি শস্যে ছত্রাকের আক্রমণ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৮/০১/২০২৬ ১৬:০৬:৫৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার জেলায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষি খাত। প্রচণ্ড ঠান্ডায় বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি আলু, টমেটোসহ বিভিন্ন রবি শস্যে দেখা দিয়েছে পাতামোড়া বা চারা পোড়া (নাবিধ্বসা) ছত্রাক, যা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

চাষিদের আশঙ্কা, আবহাওয়ার এই বিরূপ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রবি শস্যের পাশাপাশি বোরো বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে কচি চারাগুলোতে ছত্রাক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলার হাওর ও নন-হাওর এলাকায় মোট ৩ হাজার ৪৩৩ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা রয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে আলু এবং ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ৪ জানুয়ারি সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ১ জানুয়ারি ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং ২৮ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।

কুলাউড়া উপজেলার হাকালুকি হাওরপাড়ের জাব্দা গ্রামের কৃষক শামীম মিয়া বলেন, “গত ১৫ দিনের তীব্র ঠান্ডায় আমাদের রবি শস্যের বীজতলায় সবজির কচি চারায় পাতা মোড়ানো ছত্রাক দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করছি।”

কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়কুট গ্রামের কৃষক আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, “প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমার প্রায় দুই একর জমির রবি শস্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।”

রাজনগর উপজেলার বাজুয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, “তিন বিঘা জমির বোরো বীজতলায় পাতা মোড়ানো ছত্রাক দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।”

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মো. আনিসুর রহমান বলেন, “আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড হয়েছে। চলতি মৌসুমে শীতের তীব্রতা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি এবং তাপমাত্রা ওঠানামা করছে।”

মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “শীত ও কুয়াশায় রবি শস্যের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার ও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad