শাবিপ্রবির শহীদ রুদ্র সেন লেকের পাশে গ্যারেজ নির্মাণে উদ্বেগ
Led Bottom Ad

লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা

শাবিপ্রবির শহীদ রুদ্র সেন লেকের পাশে গ্যারেজ নির্মাণে উদ্বেগ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

১৩/১২/২০২৫ ১২:১৫:২২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা নান্দনিক ‘শহীদ রুদ্র সেন লেক’-এর পাশে গাড়ি রাখার গ্যারেজ নির্মাণকে ঘিরে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, এই নির্মাণকাজ লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং জনগণের অর্থের অপচয় ঘটবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি খনন করা এ লেকটি ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। লাল শাপলায় ভরা লেকের পাড়ে শিক্ষার্থীদের আড্ডা, জ্ঞানচর্চা ও অবসর কাটানোর পরিবেশ গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোসিস্টেমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জলাধারটি।

কিন্তু এ লেকের একাংশ ভরাট করে দোতলা একটি গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে মাত্র ২২টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে। অভিযোগ রয়েছে, গ্যারেজ নির্মাণের পাশেই প্রায় শতাধিক গাড়ি রাখার মতো খালি জায়গা থাকা সত্ত্বেও লেকের পাড়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, গ্যারেজে বড় যানবাহন প্রবেশের রাস্তা সংকুচিত হওয়ায় নকশা অনুযায়ী কাজ করতে গেলে লেকের অংশবিশেষ ভরাট করতে হবে। এতে লেকের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া গাড়ি ধোয়ার নোংরা পানি লেকে গেলে শাপলা, মাছ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, লেকের পরিবেশ ক্যাম্পাসকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। এখানে গ্যারেজ হলে তা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাবে। একই সঙ্গে টিলা কাটার বিষয়টিও প্রকৃতির জন্য হুমকি।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজি আতাহার বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে তৈরি জলাধার নষ্ট করা জনগণের টাকার অপচয়। পাশে খালি জায়গা থাকা সত্ত্বেও লেকের পাশেই গ্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুল ইসলাম বলেন, এ লেকে গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। শীতকালে অতিথি পাখি আসে। লেক ভরাট হলে এ সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে, যা পরিবেশ আইনের পরিপন্থী।

এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, লেকের সৌন্দর্য বজায় রেখেই গ্যারেজ নির্মাণ করা হবে। পার্কিংয়ের জন্য জলাধারের কিছু অংশ ভরাট করা হবে এবং এটি স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শেই করা হচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম জানান, কেন্দ্রীয় গ্যারেজ নির্মাণের অনুমোদন আগের প্রশাসনের আবেদনের পর নতুন করে মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া গেছে। ডিপিপিতে নির্ধারিত জায়গাতেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হওয়ায় স্থান পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

এদিকে শিক্ষার্থীরা লেক রক্ষা ও বিকল্প স্থানে গ্যারেজ নির্মাণের দাবিতে প্রশাসনের পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad