অধিকাংশ ভোটার জানেন না
বিতর্কের মুখে রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের নির্বাচন আজ
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সিলেট ইউনিটে প্রথমবারের মতো ব্যালটে সরাসরি নির্বাচন আজ শনিবার। নগরীর সারদা হলে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ৬৫৮ জন। তবে বেশির ভাগ ভোটারই জানেন না আজ ভোট হচ্ছে।
প্রার্থীতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ে মনোনয়ন না তুললেও ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান সেলিমকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অপর প্রার্থী। ফলে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন সেলিম।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রথমবার নির্বাচন হওয়ায় শুরুতে সদস্যদের মধ্যে ছিল উৎসাহ। কিন্তু তপসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য প্রচার শিথিল হয়ে পড়ে। গণমাধ্যমেও বিষয়টি তেমন প্রচার হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, এতে আবারও ‘পুরোনো অস্বচ্ছ পরিবেশ’ ফিরে আসছে। নির্বাচনে ৭টি পদে ভোট নেওয়া হবে। ভোটাররা জানাচ্ছেন, নানা অনিয়ম ও ত্রুটির অভিযোগ কমিশনের কাছে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রায় ৪ হাজার ৬৫৮ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ভোটার নির্বাচন হওয়ার বিষয়টিই জানেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোটারদের কেউ কেউ জানান, চিঠিও পাননি তাঁরা। তাছাড়া, প্রকাশিত তালিকায় বহু ভোটারের এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা ও পিতার নাম নেই। মৃত ব্যক্তির নামও তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে একজন আজীবন সদস্য থাকার কথা থাকলেও তাঁকে কমিটিতে রাখা হয়নি। কমিটি গঠনে সদস্য সচিব করা হয়েছে রেড ক্রিসেন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির বঙ্গবন্ধু পরিষদের এক কর্মকর্তা—যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আজীবন সদস্যরা।
অভিযোগ রয়েছে, ট্রেজারার পদে তিন মেয়াদ থাকা মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন সদস্য। তিনি বর্তমানে সেক্রেটারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় ইউনিটে ‘অবৈধ নিয়োগ’ হয়েছে তাঁর প্রভাবেই।
রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পরিচালক অবশ্য এসব অভিযোগ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। অন্যদিকে ইউনিটের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব তাঁর নয়।
আজীবন সদস্যদের অভিযোগ, ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। একজন সদস্য জানান, তালিকায় এক মোবাইল নম্বর দিয়ে ১১ জন ভোটারকে যুক্ত করা হয়েছে—যা ‘পরিকল্পিত ভুল’ বলেই মনে করছেন তাঁরা।
গত অক্টোবরের সভায় মোট ভোটারের বিপরীতে মাত্র ৩০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন; তাঁদের অনেকে নির্বাচনের সময় নিয়েও আপত্তি জানান। সচেতন মহলের মতে, ত্রুটি দূর করে সব ভোটারকে ভোটাধিকার নিশ্চিত করেই নির্বাচন করা উচিত ছিল।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: