শ্রীমঙ্গলে সেতুর আশায় বুক বেঁধে হাজারো মানুষ
Led Bottom Ad

চার যুগের অপেক্ষা

শ্রীমঙ্গলে সেতুর আশায় বুক বেঁধে হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

১৪/১১/২০২৫ ১৬:০৮:৫২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের নলোয়ারপাড়ায় সময় যেন থমকে আছে চার যুগ ধরে। মাত্র ৬০ ফুটের একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সরু সাঁকো পার হন শত শত মানুষ। আর সেই দুর্ভোগের দীর্ঘশ্বাস বয়ে বেড়ায় ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে নিয়ে যাওয়া কোমলমতিরা।


উদনাছড়া নদী নরম স্রোতে বয়ে গেছে জনপদের বুক চিরে। এক পারে স্কুল–মাদ্রাসা, ইউনিয়ন পরিষদ—অন্য পারে হাজারো মানুষের বসতি। জীবনের প্রতিটি দিনই তাদের কাটে নদীর ওপার–এপার ঘুরে। কিন্তু পথের মাঝেই দাঁড়িয়ে থাকে ভয়—পিচ্ছিল বাঁশের সাঁকো ভেঙে পড়ে যাওয়ার ভয়, সন্তানটি নিরাপদে স্কুলে পৌঁছাতে পারবে তো সেই উৎকণ্ঠা।


বৃষ্টির দিনে দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। সরু সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে; ছোট্ট কোনো ভুলেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। কত শিশু–কিশোর যে আহত হয়েছে, তার হিসাব আর কারো জানা নেই। অনেক অভিভাবক তাই বুক কাঁপা ভয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না—তবু কী করবেন, সেতু যে নেই!


চার যুগ ধরে এলাকাবাসীর দাবি একটাই—উদনা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু। এই দাবির পেছনে কারও যৌবন ফুরিয়েছে, কারও চুল পেকে সাদা হয়েছে। মন্ত্রী–এমপি, জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস মিলেছে অনেক, কিন্তু সেতু আর হয়নি। মানুষের ক্ষোভ তাই বাড়ছে, কিন্তু আশাও ফুরোয় না—আজ নয় তো কাল, সেতুটি হবে—এই বিশ্বাসেই তারা বেঁচে আছেন।


এই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন পার হন কয়েক হাজার মানুষ—শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী, এমনকি রোগী। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নেওয়া হয় যেন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে এক ভয়ঙ্কর যাত্রা। দেশের সর্বত্র যখন উন্নয়নের আলো ছড়াচ্ছে, তখনও এই জনপদের অগ্রযাত্রা থমকে আছে একটি ছোট্ট সেতুর অভাবে।


সিন্দুরখাঁন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত রবিন বলেন, "নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সেতু নির্মাণের আবেদন পাঠানো হবে।"


উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় সেতুটি অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত প্রস্তাবনা পাঠানো হবে মন্ত্রণালয়ে।”


চার যুগের অপেক্ষা, চার যুগের দাবি—এলাকাবাসীর স্বপ্ন খুব বড় কিছু নয়। তারা চায় শুধু একটি সেতু—যা বদলে দেবে তাদের জীবন, শিক্ষার আলো পৌঁছে দেবে আরও দূর, খুলে দেবে স্থানীয় অর্থনীতির নতুন পথ। উদনা নদীর ওপর সেই স্বপ্নের সেতুই এখন হাজারো মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad