জ্বলে উঠে সিলেটকে জাগিয়ে দিলেন আরিফ
আরিফুল হক চৌধুরী—সিলেটের রাজনীতির সেই ম্যাজিকম্যান, যিনি নিজের জাদু দিয়ে নগরবাসীর আশা ও স্বপ্নের প্রদীপ জ্বালান। পৌরসভার কমিশনার থেকে সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। সমালোচনার ঝড়-ঝাপটা তার পথ থামাতে পারেনি, কারণ তার লক্ষ্য একটাই—সিলেটকে তার প্রকৃত সৌন্দর্য ও সম্ভাবনায় পূর্ণ করা।
আরিফুল হক চৌধুরীর এই যাত্রা কখনো দলীয় সুসমন্বয়, কখনো রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে হয়েছে। তিনি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থের খেলা করেননি, বরং সবসময় নগরের মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দলীয় সরকারের বাইরে থেকেও তিনি উন্নয়নের বরাদ্দ এনেছেন, ফুটপাত মুক্ত ও ক্লিন সিলেটের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। তার এই দায়িত্ববোধ ও ন্যায্যতার প্রতি অবিচল প্রেমই তাকে সিলেটবাসীর ‘ভরসার নাম’ বানিয়েছে। উন্নয়নের শর্তে তিনি আপোসহীন থাকায় নিজ দলীয় সরকার ক্ষমতায় না থেকেও উন্নয়ন বরাদ্ধ এনেছেন একের পর এক। আরিফুল হকের জাদুকরী উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের বিশ্বাস এবং নির্ভার ছিলেন আরিফুল হক। সিলেটের উন্নয়নের বরপুত্র বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের হাত ধরেই সিলেটবান্ধব কৌশল রপ্ত করেন তিনি। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও। ফলে সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতেরও নেক নজরে আসেন আরিফুল হক চৌধুরী। ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবুদল মোমেনের শাসনামলেও।
সাম্প্রতিক সময়ে আরিফুল হক চৌধুরী আবারও নাগরিকদের মধ্যে আশা জাগিয়েছেন। সিলেটের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে বৈষম্য ও বঞ্চনার প্রতিবাদে তিনি ‘সিলেট আন্দোলন’ নামে একটি অরাজনৈতিক, সার্বজনীন প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছেন। ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ এলাকা থেকে শুরু হওয়া মশাল মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। হাজার হাজার মানুষ দল-মত ভুলে একত্র হয়ে এই মিছিলে অংশ নেন।
আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, “সিলেটের উন্নয়নে বৈষম্য ও অবহেলার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন তৈরি করা হয়েছে। আমরা আমাদের শহরের প্রতি দায়বদ্ধ। আমাদের দাবি ন্যায্য। আমরা চাইলেই পরিবর্তন আনতে পারি।” আগামী রবিবার সকাল ১১টা থেকে কোর্ট পয়েন্ট থেকে সুরমা মার্কেট পয়েন্ট পর্যন্ত গণঅবস্থান অনুষ্ঠিত হবে।
এই আন্দোলন শুধু আরিফুল হক চৌধুরীর নয়—এটি সিলেটের সকল মানুষের। প্রতিটি ধাপ, প্রতিটি মিছিল, প্রতিটি আবেদন যেন নগরের হৃদয়কে সচল করে, যেন সবাই একসাথে বলছে—“আমরা চাই ন্যায্যতা, আমরা চাই উন্নয়ন, আমরা চাই সিলেটকে আমাদের চোখের মতো পরিষ্কার ও সুন্দর।”
আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে সিলেট আজ নতুন এক জাগরণের পথে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের আশা ও স্বপ্ন উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।
রোদ্দুর রিফাত
মন্তব্য করুন: