সিলেট-৩ আসনে বিএনপি’র মনোনয়নযুদ্ধ, বাড়ছে উত্তাপ ও দ্বিধাবিভক্তি
Led Bottom Ad

সিলেট-৩ আসনে বিএনপি’র মনোনয়নযুদ্ধ, বাড়ছে উত্তাপ ও দ্বিধাবিভক্তি

মীর্জা ইকবাল

১৮/১০/২০২৫ ০৯:২৯:১৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সদরের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন আসন হলো সিলেট-৩, যা দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি’র শক্ত ঘাঁটি হলেও এ আসনে বর্তমানে দলীয় মনোনয়ন না হওয়ায় ভোটার ও নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দ্বিধাবিভক্তি মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরই কমবে। এই আসনটি কেবল বিএনপি’র জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস ও অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দলও এই আসনে সক্রিয়। ফলে ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা একাধিক দিক থেকে নজরকাড়া হয়ে উঠেছে।


এই আসন থেকে ধানের শীষের প্রতীকের জন্য বিএনপি’র বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা মাঠে সক্রিয়। তারা হলেন: যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ মালিক। তিনি দীর্ঘ সময় লন্ডনে অবস্থানকালীন সময়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সক্রিয় ছিলেন, আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনা করেছেন।দেশে ফিরে ভোটের মাঠে নেমে নেতাকর্মীদের মধ্যে হচ্ছেন প্রশংসিত।‘সেক্রিফাইস’ হিসেবে দীর্ঘ সময় বিদেশে থেকেও দলের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার কারণে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।


বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিস্টার এমএ সালাম। তিনি বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। দেড় যুগ ধরে তিনি সিলেট-৩ আসনে সক্রিয়। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে রয়েছে এই নেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেলেও পরে তা ছাড়তে হয়েছিল। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে তার সংযোগ এবং দীর্ঘদিনের কার্যক্রম তাকে ভোটে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে।


এদিকে বিএনপিরে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি। তিনি গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সিলেটের শৃঙ্খলা ফেরাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ঢাকা-সিলেট রুটের নির্মাণ কাজের ধীরগতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছেন।

তৃণমূলের ব্যাপক সমর্থন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে আসনে তার অবস্থান শক্ত।


অপর তরুণ নেতা আবদুল আহাদ খান জামালও দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। তিনি সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। আন্দোলন-সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন, একাধিকবার কারাবাস ভোগ করেছেন। ভোটের মাঠে তৃণমূলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও সমর্থন পাচ্ছেন। বিভিন্ন শোডাউনে অংশগ্রহণ করে ইতিমধ্যেই তিনি নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছেন।


ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মুখ হলেও পিতার জনপ্রিয়তার সূত্রে তিনি এলাকায় সুপরিচিত। নির্বাচনী এলাকায় তার অনুসারীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।


ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই যুক্তরাজ্য বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতা। তিনিও দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশে তার অনুসারীরা ইতিমধ্যেই প্রচারণা শুরু করেছেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী হিসেবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব স্থানীয় প্রার্থীদের প্রচারণায় সহায়ক।


অন্যান্য দল ও প্রার্থী

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাবেক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ। দক্ষিণ সুরমায় তার ভোটব্যাংক শক্তিশালী। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. দিলওয়ার হোসেন। তিনিও তিন উপজেলায় সমানভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে লড়বেন মাওলানা নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মাওলানা লুৎফুর রহমান কাসেমী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা রেজাউল হক চৌধুরী রাজু। 


এই দলগুলো নিজেদের অনুসারী ও কর্মীবাহিনী দিয়ে ভোটের মাঠে সক্রিয়। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় নিজস্ব ভোটব্যাংক ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।


ভোটের পরিস্থিতি ও দ্বিধাবিভক্তি

বিএনপি’র তৃণমূল এবং প্রার্থীদের মধ্যে বিভাজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা একক প্রার্থী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কাটবে না।


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে—দলীয় ভেতরের দ্বিধাবিভক্তি কমবে। তৃণমূলের সমর্থন এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হবে। ভোটের উত্তাপ এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বেড়ে যাবে।


তৃণমূল নেতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রার্থীদের সম্পর্কও ভোটের ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংযোগ কোনো প্রার্থীকে বেশি সমর্থন দেয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা দেবে।


ভোটাররা বলছেন, সিলেট-৩ আসন কেবল একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কেন্দ্র নয়, বরং এখানে ভোটারের আগ্রহ, তৃণমূলের সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন দলের প্রচারণার সমন্বয় পুরো নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করবে। মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ও তার প্রচারণার ধরন পুরো আসনের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপকে নির্ধারণ করবে।

সুতরাং, মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর এই আসনটি রাজনৈতিক বিশ্লেষক, স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের জন্য নজরকাড়া কেন্দ্র হিসেবে থাকবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad