জুড়ীতে চা বাগান সর্দার হত্যার রহস্য উদঘাটন
Led Bottom Ad

চাকরি হারোনোর ক্ষোভ থেকেই খুন

জুড়ীতে চা বাগান সর্দার হত্যার রহস্য উদঘাটন

নিজস্ব প্রতিনিধি, জুড়ী

০৪/১০/২০২৫ ২১:০৬:০৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ক্লিবডন চা বাগানের শ্রমিক সর্দার রামবচন গোয়ালা (৪০) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার মূল আসামি গোলাপ সতনামীকে (৩৩) আলামতসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত লাঠি, মোটরসাইকেল, ভিকটিমের মোবাইল ফোন, জুতা, লাঠি বাঁধার গামছার টুকরা জব্দ করা হয়।


শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারে কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মা. আজমল হোসেন। 


সংবাদ সম্মেলনে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফরহাদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন। 


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রামবচন গোয়ালা বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর কুলাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পর দিন সকালে জুড়ীর কাপনাপাহাড় চা-বাগান এলাকায় রক্তের দাগ ও স্যান্ডেল দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে বাবুনালা ছড়া থেকে রামবচনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা ও কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেনের তত্বাবধানে মো. মুরশেদুল আলম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে। 


গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ভোরে কামিনীগঞ্জ বাজার থেকে গোলাপ সতনামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।


আজমল হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, সেদিন সন্ধ্যায় গোলাপ সতনামী রামবচনকে মদ খাওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং মোটরসাইকেলে রত্না চা বাগানে যায়। সেখানে চন্দন নামের এক ব্যক্তিসহ তারা মদ পান করে। এ সময় চাকরি ফেরত চাওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। রামবচন গালিগালাজ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে গোলাপ। ২০১৭ সালে রামবচনের কারণে চাকরি হারিয়েছিল গোলাপ, তাই তার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল।’


তিনি আরও বলেন, ‘রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে সাগরনাল চা বাগান থেকে ফেরার পথে বাবুনালা ছড়ার কাছে মোটরসাইকেল থামিয়ে গোলাপ কোদালের হাতল দিয়ে রামবচনের মাথায় একাধিক আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যার পর গোলাপ সোনারূপা চা বাগানে গিয়ে এক ব্যক্তিকে বিষয়টি জানায়। পরে দুইজনে মিলে লাশ টেনে বাবুনালা ছড়ায় ফেলে দেয় এবং গাছপালা ও মাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।’

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad