নিরবধি ভালোবাসা: টিটু ও হাওয়া
শব্দহীন এক পৃথিবীতে বসবাস হাওয়া আক্তারের (২৭)। কিন্তু সেই নীরবতা ভেঙেই সেখানে প্রবেশ করেছে ভালোবাসার গুঞ্জন। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে এক অনন্য অনুরাগের গল্প রচনা করেছেন সুনামগঞ্জের মধ্যনগরের যুবক টিটু মিয়া (৩০)। বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী হাওয়াকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়ে তিনি স্থাপন করেছেন বিনাশর্ত ভালোবাসার বিরল দৃষ্টান্ত।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন টেপিরকোনা গ্রামের যুবক টিটু মিয়া। সেখানেই প্রথম দেখা দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের মৃত মৌলা মিয়ার মেয়ে হাওয়ার সঙ্গে। প্রথম দর্শনেই তৈরি হয় অনুভূতির সাঁকো। কোনো মৌখিক ভাষা নয়, বরং চোখের ভাষা আর হাতের ভঙ্গিতেই শুরু হয় ভাবের আদান-প্রদান। হাওয়ার সম্মতি মিলতেই ভালোবাসার টানে, কোনো প্রকার যৌতুক ছাড়াই, মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন টিটু। স্থানীয় কাজী সিরাজুল হকের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
কথা বলতে না পারলেও ইশারার ব্যাকরণে স্বামীর প্রতিটি মনের কথা নিমেষেই বুঝে নেন হাওয়া। সংসার সামলাতেও তিনি অনন্য। ঘরের কোণ পরিষ্কার রাখা, গবাদিপশুর সেবা কিংবা রান্নার কাঠ প্রস্তুত—কঠোর পরিশ্রমের সব কাজই তিনি করে চলেন পরম নিপুণতায়।
তবে এই ভালোবাসার পথটি একদম মসৃণ নয়; সেখানে পড়েছে সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিকূলতার ছায়া। হতদরিদ্র পরিবারে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত এবং কনের প্রতিবন্ধকতার কারণে টিটুর বাবা রাজি হলেও, মেনে নেয়নি ছোট ভাইবোন ও নিকটাত্মীয়রা। ফলে বিয়ের সাত মাস পার হলেও স্ত্রীকে নিজের পৈতৃক ভিটায় তুলে নিতে পারেননি টিটু। বর্তমানে শাশুড়ির জরাজীর্ণ ভিটাতেই কাটছে এই দম্পতির দিনকাল।
টিটুর বাবা কাছা মিয়া বলেন, "বিয়ে আল্লাহর বিধান। ছেলের পছন্দ ও ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই পরম আদরে পুত্রবধূকে ঘরে তুলে নেব।" এর পাশাপাশি নতুন দম্পতির জন্য সরকারি ও সামাজিক সহযোগিতারও অনুরোধ জানান তিনি।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, হাওয়া আক্তার ও তার ভাই বর্তমানে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের যেকোনো সুযোগ-সুবিধায় এই দম্পতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: