অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ইসির

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ইসির

সুলতান মোহাম্মদ, ঢাকা অফিস

২৮/০৬/২০২৬ ২১:২০:৪৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আগামী অক্টোবর মাসকে সামনে রেখে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক প্রস্তুতি রয়েছে। তবে নির্বাচন আয়োজনের ব্যয় কিছুটা কমানো যায় কি না, সে বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।


রোববার সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। এতে চার নির্বাচন কমিশনার এবং মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা অংশ নেন।


বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার নির্বাচন আয়োজন করতে হলে কোনগুলো আগে এবং কোনগুলো পরে করা হবে, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে।


তিনি বলেন, নির্বাচন অক্টোবর, নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বর—যখনই হোক না কেন, কমিশন অক্টোবরকে লক্ষ্য ধরেই প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। অক্টোবরে ভোট হলে তার প্রায় ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।


ইসি জানিয়েছে, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। জাতীয় নির্বাচনের পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তুতিও রয়েছে।


আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বৈঠকে লজিস্টিক, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন পরিচালনার অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


তিনি জানান, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, অর্থাৎ দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। তবুও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচনের জন্য খসড়া আচরণবিধিও ইতোমধ্যে ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে ৩০ জুনের মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়েছে। কমিশনার মাছউদ বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, সাংবাদিকসহ যেকোনো ব্যক্তি মতামত দিতে পারবেন। গ্রহণযোগ্য মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।


তিনি জানান, মতামত পাওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যেই আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।



বৈঠকে বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।


আব্দুর রহমানেল বলেন, সার্বক্ষণিক শিক্ষকরা একসঙ্গে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কমিশন প্রাথমিকভাবে ভাবছে। এ বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad