মাদ্রাসা ধসে পড়ার উপক্রম
মধ্যনগরে একের পর এক বাঁধ ভেঙে ডুবছে ফসল
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে একের পর এক ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সোনার ফসল। শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলার বোয়ালা হাওরে ‘গুড়াডুবা’ উপপ্রকল্পের একটি বাঁধ ভেঙে নতুন করে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি প্লাবিত হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গল ও বুধবার যথাক্রমে জামগড়া খাল ও জিনারিয়া হাওরের বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমেশ্বরী নদীর পানির প্রবল চাপে মধ্যনগর মহিলা কওমি মাদ্রাসার পাশের একটি কালভার্ট সংলগ্ন পাউবোর বাঁধ ভেঙে হু হু করে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পানির তীব্র স্রোতে মাদ্রাসা ভবনটির একাংশ ধসে পড়তে শুরু করেছে। সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনতা চেষ্টা করেও পানির গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। কৃষক মুরাদ মিয়া আক্ষেপ করে জানান, তাঁর ১৭ কেয়ার জমি কাটার বাকি থাকতেই বাঁধ ভেঙে সব তলিয়ে গেছে। তিনি এই বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট পিআইসি ও কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই হাহাকার শোনা গেছে কৃষক নিকেশ সরকার ও আমিনুল ইসলামের কণ্ঠে, যাঁদের কষ্টার্জিত ফসল এখন পানির নিচে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খলিল বিন রাহাত জানান, মধ্যনগরে ১৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা ও বাঁধ ভাঙার ফলে ইতোমধ্যে কয়েকশ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যনগর ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেনের মতে, বোয়ালা হাওরের অবশিষ্ট ২০ হেক্টর জমি এই নতুন বাঁধ ভাঙার ফলে তলিয়ে যাবে।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার দাবি করেছেন, বোয়ালা হাওরের ধান কাটা প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় বাঁধটি ঠেকানোর বিশেষ চেষ্টা করা হয়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ জানান, ফসল রক্ষার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মাদ্রাসাটি বাঁচাতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও শান্ত্বনা দেওয়া হলেও ঋণের বোঝা ও সারা বছরের খোরাক হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরপারের কৃষকরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: