বজ্রপাত ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত সুনামগঞ্জ: তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন
সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর জনপদ এখন এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে। একদিকে আকাশ থেকে নেমে আসা মরণঘাতী বজ্রপাত, অন্যদিকে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের একমাত্র সম্বল বোরো ধান। গত সোম ও মঙ্গলবার জেলায় রেকর্ড ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার ধান বুক সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকট এবং বৈরী আবহাওয়ায় হারভেস্টার মেশিন অকেজো হয়ে পড়ায় অসহায় কৃষকরা চোখের সামনেই ফসলের মৃত্যু দেখছেন।
বজ্রপাত রোধে সরকারি উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে হাওরবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরকারি নথিতে ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত লাখো তালগাছ রোপণের দাবি করা হলেও বাস্তবে হাওরে সেগুলোর অস্তিত্ব মিলছে না। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ১৮টি বজ্রনিরোধক দণ্ডও কৃষকদের কোনো উপকারে আসছে না। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন শাখার তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ৭২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে কেবল ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান তালগাছ রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে মৃত্যুর মিছিল থামছে না।
ফসল তলিয়ে যাওয়ার পেছনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। অনেক এলাকায় বাঁধ প্রকল্পের আওতাভুক্ত না হওয়ার অজুহাতে দায় সারছে পাউবো, যার ফলে করচার হাওরের হরিমণের বাঁধের মতো অনেক অসমাপ্ত কাজ কৃষকদের বিপদে ফেলেছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৩৭টি হাওরের অর্ধেকের বেশি জমির ধান এখনো কাটা বাকি। আগামী কয়েক দিনের অতিবৃষ্টির পূর্বাভাস কৃষকদের জন্য যেন এক অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকৃতি ও প্রশাসনের এমন উদাসীনতায় আগামী এক বছরের খাদ্যের সংস্থান নিয়ে এখন চরম দিশেহারা হাওরপারের মানুষ।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: