ক্যামেলিয়া হাসপাতাল ১৬ দিন বন্ধ: চিকিৎসা না পেয়ে ৫ চা শ্রমিকের মৃত্যু
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগান এলাকায় অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালটি টানা ১৬ দিন ধরে বন্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো চা শ্রমিক। এই দীর্ঘ সময়ে সুচিকিৎসার অভাবে ৫ জন চা শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে শমশেরনগর চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্র ও শনিবার আলীনগর চা বাগানে দুজন, কানিহাটি চা বাগানে দুজন এবং চাতলাপুর চা বাগানে একজন শ্রমিক চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, "১৬ দিন ধরে আমাদের একমাত্র নির্ভরযোগ্য হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। আমরা অবিলম্বে চিকিৎসাসেবা চালু এবং এই অচলাবস্থার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।" নব্বইয়ের দশকে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালে ডানকান ব্রাদার্সের অধীনে থাকা বিভিন্ন বাগানের শ্রমিক ও কর্মকর্তারা সেবা নিয়ে আসতেন।
হাসপাতাল বন্ধ হওয়ার নেপথ্যে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ শমশেরনগর চা বাগানের এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় চিকিৎসকদের হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে ২৭ মার্চ থেকে চিকিৎসক ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করলে কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ২৯ মার্চ এক বৈঠক হলেও ইংল্যান্ডভিত্তিক এই ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক উপদেষ্টা রামভজন কৈরী বলেন, কিশোরীর মৃত্যু বেদনাদায়ক, কিন্তু এর জের ধরে হাসপাতাল বন্ধ রাখা কোনো সমাধান নয়। অন্যদিকে, শমশেরনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান জানান, হাসপাতালটি একটি পৃথক ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় তাঁদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। আপাতত হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় লংলার ক্যামেলিয়া স্কুলের কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: