চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলে নতুন আকর্ষণ বিরল ‘নাগলিঙ্গম’
Led Bottom Ad

দর্শনার্থীদের মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ফুল ও সুবাস

চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলে নতুন আকর্ষণ বিরল ‘নাগলিঙ্গম’

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

০৫/০৪/২০২৬ ১৯:৫৯:০২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা বাগানের সবুজের পাশাপাশি এখন পর্যটকদের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিরল প্রজাতির বৃক্ষ ‘নাগলিঙ্গম’। লম্বা গাছের কাণ্ডজুড়ে ফুটে থাকা নয়নাভিরাম ফুল, অদ্ভুত গঠন এবং মন মাতানো সুবাস উপভোগ করতে প্রতিদিন বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) ক্যাম্পাসে ভিড় করছেন শত শত প্রকৃতিপ্রেমী।

মৌলভীবাজারের দুটি স্থানে বর্তমানে এই নাগলিঙ্গমের দেখা মিলছে— একটি বিটিআরআই ক্যাম্পাস এবং অন্যটি মির্জাপুর ইউনিয়নের শহরশ্রী গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত নৌ-কর্মকর্তা দেওয়ান গউছউদ্দিন আহমদের বাড়ির আঙিনায়। আমাজন জঙ্গলের আদি নিবাসী এই বৃক্ষটির বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita guianensis, যা সরাসরি কাণ্ড ফুঁড়ে বের হওয়া লতার মতো শাখায় ফুল ও ফল দেওয়ার অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। গাঢ় গোলাপি ও হালকা হলুদের মিশেলে দৃষ্টিনন্দন এই ফুলের পরাগচক্র অনেকটা সাপের ফণার মতো, যার সুবাসে গোলাপ ও পদ্মের ঘ্রাণ মিশে থাকে। বিটিআরআই-এর পুকুরপাড়ে থাকা বিশাল গাছটি ১৯৯৩ সালে তৎকালীন চা বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার আব্দুল্লাহ আল হোসেন রোপণ করেছিলেন, যা তিন দশকে বিশাল আকৃতি ধারণ করে এখন ফুল ও ফলে ভরে উঠেছে।

লেখক এহসান বিন মুজাহির জানান, বসন্তের শিমুলের মতো নাগলিঙ্গম তলাও ঝরে পড়া পাপড়িতে এক নান্দনিক দৃশ্যের অবতারণা করে, যা সচরাচর দেখা যায় না।

বিটিআরআই-এর উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড. ইসমাইল হোসেন জানান, পৃথিবীতে বিলুপ্তপ্রায় এই দ্রুত বর্ধনশীল বৃক্ষটি ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে এবং চারা রোপণের ১২-১৪ বছর পর ফুল দেওয়া শুরু করে। বিরল এই বৃক্ষটি শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং তার বৈজ্ঞানিক ও ঔষধি গুরুত্বের কারণে শ্রীমঙ্গলের পর্যটনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভ্রমণপিপাসুদের কাছে হয়ে উঠেছে এক অপার বিস্ময়।

শহরের যান্ত্রিকতা ছেড়ে আসা দর্শনার্থীরা চা বাগানের স্নিগ্ধতার পাশাপাশি এই বিরল নাগলিঙ্গম দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্মৃতি ধরে রাখতে ক্যামেরাবন্দি করছেন এই দুর্লভ মুহূর্তগুলো। স্থানীয়রা মনে করছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রচারের মাধ্যমে এই নাগলিঙ্গম গাছগুলো শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতি ও পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad