মৌলভীবাজারে এখনও রশিটানা নৌকায় পারাপার হচ্ছে মানুষ
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাজিরবাজার এলাকায় মনু নদ পারাপারের জন্য স্থানীয়দের প্রতিদিন রশিটানা নৌকা বা বাঁশের সাঁকো নির্ভর করতে হচ্ছে। আধুনিক এই যুগেও অন্তত ৮টি গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করছেন।
নদী পারাপারের সমস্যায় পড়ছেন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী। শুষ্ক মৌসুমে হাঁটুজল থাকলেও বর্ষার সময়ে নদী দ্রুত বয়ে যায়, ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ইতিমধ্যে এক স্কুলছাত্রী ও এক পথচারি পানিতে ডুবে মারা গেছেন, আহত হয়েছেন অনেকে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ৪০০–৫০০ শিক্ষার্থী মনু নদ পাড়ি দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করেন। কৃষিজীবীরা ফসল, সার ও বীজ বহন করতে নৌকা ব্যবহার করেন, যা অতিরিক্ত ব্যয় ও ঝুঁকিপূর্ণ।
পালপুর গ্রামের ফুয়াদ মিয়া বলেন, “বর্ষায় নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়, অনেক সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারতে পারে না। সেতু থাকলে বিপদ এড়ানো সম্ভব।”
বেকামুড়া গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, “মানুষ এবং গরু-বাছুর নিয়ে চলাচলের জন্য কাজিরবাজার এলাকায় একটি স্থায়ী সেতুর দরকার। কয়েক বছর আগে নদী পারাপারে এক স্কুলছাত্রী ও এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।”
মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান জানান, কাজিরবাজারে মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য ব্রিজ নির্মাণ দীর্ঘদিনের দাবি। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: