রাস্তায় নামাজ পড়তে বাধ্য হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা
রমজানের শেষ দশকেও ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে পারছেন না হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। সব বাধা উপেক্ষা করেই ফিলিস্তিনিরা তাদের ঈমানি দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছেন।
আল-আকসার সীমানায় ঢুকতে না পেরে তারা নিকটবর্তী বাব আল-সাহিরা গেটের আশেপাশে মাদুর বিছিয়ে মাগরিব, এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করছেন।
জেরুজালেম ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ওয়াদি হিলওয়েহ ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, গত বুধবার বাব আল-সাহিরার কাছে নামাজ পড়তে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর চড়াও হয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
অনেককে তল্লাশি করা হয়েছে, কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে এবং অনেককেই পুরনো শহরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের বিপদের সাইরেন বা সতর্কতা ছাড়াই এই তল্লাশি চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য যে, ১৯৬৭ সালের পর এবারই প্রথম আল-আকসা এভাবে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধের আগে থেকেই বিধিনিষেধের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ইসরায়েল। রমজানের প্রথম জুমায় অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে মাত্র ১০ হাজার মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে পাঁচ লাখ পর্যন্ত মানুষের সমাগম হতো।
জর্ডান পরিচালিত পবিত্র আল-আকসা পরিচালনা পরিষদ (ওয়াকফ) জানিয়েছে, রমজানের আগে থেকেই তাদের পাঁচজন কর্মীকে প্রশাসনিকভাবে আটক করেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত। এছাড়া ৩৮ জন কর্মী এবং ৬ জন ইমামের ওপর মসজিদে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
আটটি মুসলিম ও আরব রাষ্ট্র যৌথভাবে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং উপাসনালয়ে অবাধ প্রবেশের অধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের এই দমনমূলক নীতি বন্ধে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো।
এদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জেরুজালেম গভর্নরেট সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। তারা নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রমজানের শেষ জুমার নামাজেও আল-আকসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রথম সিলেট
মন্তব্য করুন: