মৌলভীবাজারের ২৭১ কিমি সীমান্তে কাটাতারের অভাব: দুর্গমতার সুযোগে বাড়ছে পাচার
Led Bottom Ad

মৌলভীবাজারের ২৭১ কিমি সীমান্তে কাটাতারের অভাব: দুর্গমতার সুযোগে বাড়ছে পাচার

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

১৩/০৩/২০২৬ ১৫:১০:৫৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ২৭১ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা এখন চোরাকারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চল, সীমান্তে কাঁটাতারের বেষ্টনী না থাকা এবং দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে রাতের আঁধারে ভারত থেকে মাদক ও অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাই পণ্য জব্দ করলেও ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশ অংশে এর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সীমান্তের অনেক দুর্গম এলাকায় বিজিবি সদস্যদের ক্যাম্প থেকে পৌঁছাতে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। ঘন জঙ্গল ও পাহাড় পাড়ি দিয়ে টহল দেওয়া বিজিবি সদস্যদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের তথ্যমতে, গত ১৪ মাসে ১৭২টি অভিযানে প্রায় ১২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

সীমান্তবর্তী কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা দিয়ে নিয়মিত ইয়াবা, মদ, নিষিদ্ধ সিগারেট, মহিষ, কাপড় এমনকি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্যও বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশাল পাচারকারী চক্র এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত, যারা বিজিবির অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে মালামাল সরিয়ে ফেলে।

বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসইউপি মো. আতাউর রহমান বলেন, "সীমান্তে কাঁটাতার ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বড়লেখা সীমান্ত থেকে সম্প্রতি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। যদি কাঁটাতার ও সড়ক যোগাযোগ সচল থাকত, তবে এত সহজে এসব পণ্য প্রবেশ করতে পারত না।" তিনি আরও জানান, বিজিবি সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা দিলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad