রাজনৈতিক প্রতিহিংসা
মৌলভীবাজারে খামারে আগুন দিয়ে গবাদিপশু নিধন
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীর গবাদিপশুর খামারে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘটা এই নৃশংস ঘটনায় কয়েক ডজন গবাদিপশু ও কয়েকশ হাঁস-মুরগি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খামার মালিকের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাঁর প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওসমান গনি কনকপুর ইউনিয়নের বুদ্ধিমন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, শবে বরাতের রাতে খামারে পশুদের খাবার দিয়ে তিনি বাসায় ফেরেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ আগুনের খবর পেয়ে গিয়ে দেখেন পুরো খামার দাউ দাউ করে জ্বলছে। স্থানীয়দের সহায়তায় অনেক চেষ্টা করেও খামারের ৫০টি গরুর মধ্যে ৩৭টিকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া প্রায় ৫০০ হাঁস ও ১০টি ভেড়া আগুনে পুড়ে মারা গেছে। ধ্বংসস্তূপের মাঝে এখন কেবল গবাদিপশুগুলোর কঙ্কাল অবশিষ্ট আছে।
ওসমান গনি অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এর পেছনে এমন কিছু ব্যক্তি জড়িত যারা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে কৌশলগতভাবে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।
ওসমান গনির বৃদ্ধ বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “কয়েকজন ব্যক্তি পেট্রোল ঢেলে আমার ছেলের সব শেষ করে দিয়েছে। আমরা এই অমানবিক ঘটনার বিচার চাই।”
ঘটনার খবর পেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। খামার মালিককে লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর থেকে হাওর পাড়ের অন্যান্য খামারিদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, নিরীহ গবাদিপশুকে এভাবে পুড়িয়ে মারা জঘন্য অপরাধ; এর পেছনে যারাই থাকুক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: