মৌলভীবাজারে চাঁদা না দেওয়ায় শিশুকে মারধরের অভিযোগ
মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনা পয়েন্টে চাঁদা না দেওয়ায় ১২ বছর বয়সী এক শিশু লাড্ডু বিক্রেতাকে মারধর এবং তার বিক্রির লাড্ডু ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রতন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
সোমবার রাত প্রায় ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ জানান এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তির দাবি করেন।
ভুক্তভোগী শিশু সিয়াম শহরের শ্যামলী রোড এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে কয়েক মাস ধরে চৌমুহনা পয়েন্টে ফুটপাতে বসে লাড্ডু বিক্রি করছে সে।
সিয়ামের অভিযোগ, ওই এলাকায় বসে ব্যবসা করতে হলে প্রতিদিন তাকে ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। টাকা না দিলে তাকে বসতে দেওয়া হতো না এবং হুমকি দেওয়া হতো।
সিয়াম বলে, সোমবার রাতে সে লাড্ডু বিক্রি করছিল। এ সময় রতন এসে চাঁদার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না চাইলে তাকে ও তার ভাইকে মারধর করা হয় এবং লাথি মেরে লাড্ডু ফেলে দেওয়া হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিয়াম জানায়, বাবার নেওয়া ১০ হাজার টাকা ঋণ শোধ করতে সে এই কাজ করছে। ঘটনার দিন সে মাত্র তিনটি লাড্ডু বিক্রি করতে পেরেছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাহিন আহমদ চৌধুরী বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মুখে মাস্ক পরে শিশুটির কাছে চাঁদা দাবি করেন। প্রতিবাদ করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে তাকে ধাক্কা দেন এবং শিশুটিকে লাথি মেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক ছিলেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ফুটপাতের দোকান ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছেন। প্রভাবশালী মহলের কারণে কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাননি বলে দাবি তাঁদের।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকেরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: