জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ
শমসেরনগর চা বাগানের ঐতিহাসিক গলফ মাঠ ধ্বংসের অভিযোগ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর চা বাগানে অবস্থিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গলফ মাঠের একটি অংশ ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিবাদের পর জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন শমসেরনগর চা বাগানের গলফ মাঠটির প্রায় অর্ধেক অংশ ট্রাক্টর দিয়ে কেটে নষ্ট করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের ভাষ্য, গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে মাঠের ‘গ্রিন’ নষ্ট করে সেখানে চা বাগান সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এলাকাবাসী ও বাগান কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ডানকান ব্রাদার্সের চেয়ারম্যান গলফ খেলতে শমসেরনগর চা বাগানে যান। সে সময় কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে কথাকাটির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরই গলফ মাঠের ব্যবহার বন্ধ করে চা বাগান তৈরির কাজ শুরু করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) শমসেরনগর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী। পরে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বর্তমানে মাঠে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে।
শমসেরনগর গলফ মাঠটি পর্যটকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসতেন। পর্যটনকে কেন্দ্র করে এলাকায় অস্থায়ী দোকান, গাইড সেবা ও ছবি তোলার মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ড গড়ে ওঠে। এতে স্থানীয় অনেক মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও যুবকেরা আয়ের সুযোগ পেতেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো এই স্থানটি শুধু একটি গলফ মাঠ নয়, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবাহী একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। একজন কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে এমন একটি জায়গা ধ্বংস করা কাম্য নয়। তাঁরা দ্রুত মাঠটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গলফ মাঠের এক চৌকিদার জানান, আগে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসতেন। এখন মাঠের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দর্শনার্থীরা আসছেন না। এতে স্থানীয়দের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় দোকানদার ও বাসিন্দারা জানান, একসময় দৈনিক তিন থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হতো। এখন তা নেমে এসেছে দুই–তিন শ টাকায়। অনেক শিক্ষার্থী ও যুবক গাইড হিসেবে কাজ করে বা ছবি তুলে দিনে চার–পাঁচ শ টাকা আয় করতেন।
পরিবেশবাদী নুরুল মোহাইমিন মিল্টন বলেন, ব্রিটিশ আমলে চা বাগানের ব্যবস্থাপকদের বিনোদনের জন্য এই গলফ মাঠ তৈরি করা হয়েছিল। এটি একটি ঐতিহাসিক ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান। অনুমোদন ছাড়া এমন জায়গার ভূমি পরিবর্তন করা আইনসম্মত নয়। তিনি মাঠটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
গলফ মাঠের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, গলফ মাঠের মোট আয়তন চার একর। এর মধ্যে প্রায় দুই একর ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আপাতত কাজ বন্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সঙ্গে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: