​শমশেরনগর গলফ মাঠ খুঁড়ে চা ও রাবার গাছ রোপণ: অস্তিত্ব সংকটে পর্যটন কেন্দ্র
Led Bottom Ad

​শমশেরনগর গলফ মাঠ খুঁড়ে চা ও রাবার গাছ রোপণ: অস্তিত্ব সংকটে পর্যটন কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২৮/০১/২০২৬ ২০:২৬:৫৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানের ঐতিহ্যবাহী এবং দৃষ্টিনন্দন ‘গলফ মাঠ’ খুঁড়ে চা ও রাবার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে মাঠের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে গাছ লাগানোর কাজ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। এই উদ্যোগের ফলে জেলার অন্যতম প্রধান একটি পর্যটন কেন্দ্র বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, শমশেরনগর চা বাগান কর্তৃপক্ষ বুধবার সকাল থেকে গলফ মাঠের সবুজ ঘাস তুলে মাটি খুঁড়তে শুরু করেছে। সেখানে চা গাছ ও রাবার গাছ লাগানোর প্রাথমিক কাজ চলছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই সুবিশাল ও প্রশস্ত সবুজ মাঠটি দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ভ্রমণপিপাসু এই মাঠে সূর্যাস্ত দেখতে এবং সবুজের সান্নিধ্য পেতে আসতেন।

​মাঠ খুঁড়ে ফেলায় ক্ষুব্ধ পর্যটক নজমুল ইসলাম বলেন, “সুন্দর একটি প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র এভাবে নষ্ট করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের খেয়ালখুশি মতো পর্যটন কেন্দ্র ধ্বংস করতে পারে না। আমরা চাই দ্রুত এই ধ্বংসাত্মক কাজ বন্ধ হোক।”

​স্থানীয়রা বলছেন, এটি কেবল একটি মাঠ নয়, শমশেরনগরের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি নষ্ট হলে শমশেরনগরের পর্যটন খাতে ব্যাপক ধস নামবে।

​বিষয়টি নিয়ে শমশেরনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

​মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এ প্রসঙ্গে বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। জায়গাটি বর্তমানে কার দখলে রয়েছে এবং কেন এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে। পর্যটন ও পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু যেন না ঘটে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

​শমশেরনগর গলফ মাঠটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবপুর লেকের কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকদের রুটিনে এটি অন্যতম কেন্দ্র ছিল। এখানকার উঁচু-নিচু টিলার ওপর সবুজ ঘাসের চাদর নষ্ট হয়ে গেলে পর্যটকদের আগমন কমে যাবে, যা স্থানীয় অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad