পাশাপাশি বাস অথচ জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যবধান
মৌলভীবাজারে খাসিয়া পুঞ্জি ও চা শ্রমিকের জীবনযাত্রায় বিশাল ফারাক
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ডবল ছড়া এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বাস করলেও তাদের জীবনযাত্রায় রয়েছে প্রকৃষ্ট বৈষম্য। একই এলাকার দু’পাশে অবস্থিত ডবল ছড়া খাসিয়া পুঞ্জি ও ডবল ছড়া (সুনছড়া) চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যবধান চোখে পড়ার মতো।
ডবল ছড়া চা বাগান এলাকায় প্রায় ৩ হাজার চা শ্রমিকের বসবাস। এখানে বাসস্থানের সমস্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুচিকিৎসার অভাব আছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয়, অথচ চা শ্রমিকদের জীবন এখনো বঞ্চনার ঘোর অন্ধকারেই আটকে রয়েছে। বাগানে কাজ করেও তাদের ভাগ্য বদলায়নি।
অপরদিকে, বাগানের পাশেই অবস্থিত ডবল ছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে প্রায় অর্ধশতাধিক খাসিয়া পরিবার বসবাস করে। তাদের মূল পেশা পানচাষ। পান বিক্রি করে তারা আয় করে জীবনযাত্রা পরিবর্তন করেছে। পুঞ্জিতে রয়েছে মন্ত্রী বা হেডম্যানের অনুমতি সাপেক্ষে প্রবেশের ব্যবস্থা, সুন্দরভাবে সাজানো উপাসনালয়, বিদ্যালয়, পাকা সিঁড়ি ও আধা পাকা বাড়ি। পুঞ্জির নারীরা পান পরিপাটি করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেন।
খাসিয়া পুঞ্জির একাধিক বাসিন্দা জানান, পান চাষে খরচ বাড়লেও লাভের পরিমাণও বেশি। বর্তমানে এক কুড়ি পানের বাজার মূল ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। কেউ চাইলে বছরে কয়েক লাখ টাকার পান বিক্রি করতে পারে।
তবে একই এলাকার চা শ্রমিকরা জানান, তাদের মজুরি মাত্র ১৭৮ টাকা। একটি পরিবার থেকে সাধারণত একজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করতে পারেন, বাকি সদস্যরা বেকার। যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে কাজ করাও কঠিন। তারা পর্যাপ্ত খাবার, বাসস্থান ও শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, “চা শ্রমিকেরা সবসময় বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। রাষ্ট্র উদ্যোগ না নিলে এই বৈষম্য দূর হবে না।”
তিনি আরও বলেন, খাসিয়া জনগোষ্ঠী সরকারিভাবে বিভিন্ন সুযোগ পাচ্ছে, বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে কোটা থাকায় তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: