বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় ওসমান হাদি
Led Bottom Ad

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই বিপ্লবী শহীদের দাফন

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় ওসমান হাদি

প্রথম ডেস্ক

২০/১২/২০২৫ ১৬:৩১:৫৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ কমপ্লেক্সে জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদি। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে সেখানে দাফন করা হয়। দাফনের আগে শেষবারের মতো প্রিয় নেতাকে বিদায় জানান সহযোদ্ধা, স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষ। এ সময় আবেগঘন পরিবেশে উপস্থিত অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজা শেষে ওসমান হাদির মরদেহ দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে শহীদ হাদির লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়।

এরও আগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নেওয়া হয়। শনিবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে হাদির ময়নাতদন্ত শেষ হয় বলে জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্যসচিব ডা. আব্দুল আহাদ।

গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট রোড এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে শরীফ ওসমান হাদিকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা তাকে সরাসরি মাথায় গুলি করে। সে সময় তিনি একটি রিকশায় অবস্থান করছিলেন। হামলার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দায়ী করা হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহটি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। পরদিন রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাকে চূড়ান্ত বিদায় জানানো হয়।

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সাহসী মুখ হিসেবে পরিচিত শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad