ভোটের আগে অস্ত্রের গন্ধ,সিলেট সীমান্তে চোরাচালানকারীরা সক্রিয়
দেশজুড়ে নির্বাচন আসছে, কিন্তু সীমান্তজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ। সিলেটের আকাশে এখন এক অজানা ভয় ঘনীভূত—ভোটের আগে অস্ত্রের গন্ধ যেন ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে। উত্তর-পূর্ব সীমান্তের মানুষ বলছেন, রাতের নিস্তব্ধতা ভাঙে এখন অচেনা শব্দে—মাঝে মাঝে মোটরবাইক, কখনো বা অন্ধকারে ছুটে চলা নৌকার শব্দ। আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা সীমান্ত ঘেঁষে অস্ত্র ও বিস্ফোরক প্রবেশের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছনবাড়ি সীমান্তে সম্প্রতি বিজিবি উদ্ধার করেছে ২৫০ গ্রাম উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, দুটি ডেটোনেটর ও একটি বিদেশি রিভলভার। বিজিবির কর্মকর্তারা বলছেন, “এই উদ্ধারই প্রমাণ করে সীমান্তে অশুভ শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে।”
গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও সুনামগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আধুনিক রাইফেল, পিস্তল, এমনকি শিল্প-উৎপাদিত বিস্ফোরক ‘নিওজেল–৯০’-ও পাচার হচ্ছে। আটক পাচারকারীদের জবানবন্দি থেকেও মিলছে সেই ভয়ানক তথ্য।
সীমান্তের পাহাড়ি জনপদের মানুষ আজ আতঙ্কে। কেউ রাতের বেলা ঘর থেকে বের হন না। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “নির্বাচন মানে তো উৎসব—কিন্তু এখন উৎসবের আগেই ভয় ছড়িয়ে পড়ছে।”
বিজিবি জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় চোরাচালানকারীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে সীমান্তপথ সক্রিয় করতে। এজন্য অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সিলেটবাসীর স্মৃতিতে এখনও জেগে আছে ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের সেই কালরাত্রি—যেদিন ছয়টি থানায় একযোগে হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা লুট করে ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ হাজারের বেশি গুলি। সেই অস্ত্রগুলোর বেশির ভাগই এখনো উদ্ধার হয়নি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুরোনো অস্ত্রের সঙ্গে নতুন চোরাই অস্ত্র যুক্ত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, “অবৈধ অস্ত্র শুধু রাজনীতির জন্য নয়, মানুষের জীবন ও গণতন্ত্রের জন্যও হুমকি। এখন সময় একটাই—অস্ত্র নয়, আস্থা ফিরিয়ে আনা।”
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, “জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। সীমান্ত থেকে শহর পর্যন্ত নজরদারি আরও শক্ত করা হয়েছে।”
নির্বাচনের আলো জ্বলার আগে সীমান্তে যে অন্ধকার নেমেছে, সেটি কতটা ঘন হবে—এখন সেই প্রশ্নেই মুখর সিলেট।
রোদ্দুর রিফাত
মন্তব্য করুন: