সিলেট-১ আসনে স্বতন্ত্র্য প্রার্থী হচ্ছেন আরিফ!
সিলেটের রাজনীতি মানেই আবেগ। মানেই সম্মান, ইতিহাস আর মানুষের নির্ভরতার গল্প। আর সেই গল্পে আগুন লেগেছে আবারও—যখন বিএনপি ঘোষণা করল তাদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের নাম।
সিলেট-১ শুধু একটা আসন নয়। এটা সিলেটের আত্মসম্মান, সিলেটের আকাশে লেখা এক প্রবাদ-“সিলেট-১ যার, সরকার তার।” এই মর্যাদার মঞ্চে, বছরের পর বছর জনমনে আলো জ্বেলে, মানুষের হাত ধরে, চোখে স্বপ্ন বুনে যিনি হেঁটেছেন—তিনি আরিফুল হক চৌধুরী। শহরের প্রতিটি গলি, প্রতিটি মুখ, প্রতিটি চোখ তাকে চেনে। দলীয় প্রতীক পাওয়ার স্বপ্নে তিনি মাঠ চষেছেন দিনের পর দিন। শোডাউন করেছেন, মানুষের ঘরে ঘরে গেছেন, শহরের দুঃখ–অভিমান নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। কিন্তু শেষমেশ? দলের ভরসা গেল খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ওপর।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ভদ্র, নরম স্বভাবের, সংগঠনের পরীক্ষিত মানুষ—এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা, রাস্তায় রিকশাচালকের হাসি, দোকানির কৃতজ্ঞ চাহনি—সেগুলো কি কখনও কেবল পদবি দিয়ে পাওয়া যায়? আরিফ যখন মেয়র ছিলেন, শহরটাকে নিজের সন্তানের মতো দেখেছেন।
এ শহরের ফুটপাত যখন দখলে গেল—তিনি নামলেন। অবৈধ রিকশা যখন রাস্তায় নৈরাজ্য করল—তিনি নামলেন। সরকারি অবিচার, উন্নয়নে বঞ্চনা—তিনি একা লড়েছেন, লোক হাসে এমন মুহূর্তেও। পরাজয়ের ভয়কে ডানায় আগুন লাগিয়ে, মানুষের সম্মান রক্ষায় তার হাঁটা—আজও সিলেট মনে রাখে।
আজ যখন দল তাকে বেছে নেয়নি—সিলেটের বাতাস ভারী হয়ে গেছে। চায়ের দোকানে, বাজারে, মসজিদের সামনে-প্রশ্ন একটাই: ‘জনতার মনের প্রার্থী যখন দল পায় না, তখন দল কি সত্যিই মানুষের মন বুঝে? যারা তাকে ভালোবাসেন, তারা বলছেন-‘প্রতিক ছাড়া যদি দাঁড়ান, তবুও আমরা আছি।’ কারণ ভোটের ব্যালটে নাম থাকে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা পায় চরিত্র, সংগ্রাম, ত্যাগ, আর ভালোবাসা। শহরটা জানে, তিনি হয়তো নিজের সাথেই কথা বলছেন এবার।
নিজেকে জিজ্ঞেস করছেন—দলই সব? নাকি মানুষের ভালোবাসাই শেষ কথা?
সিলেট অপেক্ষায়—দলের প্রার্থী মাঠে নামছেন। কিন্তু শহরের আবেগ? তা এখনও আরিফে আটকে আছে। রাজনীতি শুধু প্রতীক আর ঘোষণা নয়—এটা মানুষের বুকের স্পন্দন। আর সিলেট-১–এ আজ সেই স্পন্দনটা একটু ব্যথা পেয়েছে। সম্মানের লড়াই শুরু। সিলেট তাকিয়ে আছে—আরিফুল হক চৌধুরী যদি স্বতন্ত্র্য প্রার্থী হন-কাকে শেষমেশ বিজয়ী বলে ডাকে: দলকে, না ভালোবাসাকে?
তবে এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রোদ্দুর রিফাত
মন্তব্য করুন: