হবিগঞ্জের হাসপাতালে সাংবাদিকের মৃত্যু: চিকিৎসকসহ ২ জনের বিরুদ্ধে এজাহার
হবিগঞ্জ শহরের চাঁদের হাসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচারের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুর ঘটনায় ডা: সোলাইমানসহ দুইজনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাতে নিহতের ছেলে ব্যরিস্টার মো. জাকারিয়া রকি এ অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন—চাঁদের হাসি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সোলায়মান মিয়া (৫৫) এবং হাসপাতালের মেডিকেল সংশ্লিষ্ট কর্মী আল-আমিন মিয়া (৩০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভাধীন চাঁদের হাসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে ব্যারিস্টার জাকারিয়ার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন,তার বাবা অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তার বাবার শরীরে ইনজেকশন দেওয়ার পর গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকদের বিষয়টি জানালেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হলে বিষয়টি তদন্তের দাবি ওঠে। পরে মৃত্যুর ঘটনা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়।
তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানান।
এজাহারে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অভিযোগের দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফয়সল চৌধুরী/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: