সিলেটে অভিযান চললেও থামছে না বালু ও পাথরলুট
Led Bottom Ad

সিলেটে অভিযান চললেও থামছে না বালু ও পাথরলুট

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৯/০৮/২০২৫ ১৯:১৯:১৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটে এখনও চলছে পাথর লুটপাট। প্রশাসনের অভিযান স্বত্বেও থামছে না পাথর লুট। একই সাথে ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে বালু লুটপাট কাণ্ডে কবরস্থান, বসতভিটা ও গ্রাম বিলীন হবার পথে। অভিযান চলে, আবার অদৃশ্য ইঙ্গিতে থেমেও যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগায় লুটপাটকারীরা। ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হচ্ছে। এরপরও পাথর কোয়ারিগুলোতে লুটেরা কার্যক্রম চলছেই।


এদিকে মঙ্গলবার সকালে জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর রাংপানি থেকে লুটপাট হওয়া পাথর উদ্ধার করতে সমন্বিত টাস্কফোর্স অভিযান চালায়। অভিযানে আনুমানিক ২০ হাজার ঘনফুট পাথর ও ২৮ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পাথর রাংপানিতে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। এর আগে সোমবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেট সদর উপজেলার টিলাপাড়া, রঙ্গিটিলা, কান্দিপাড়া ও সালিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ধানক্ষেত, বাড়ির উঠান এবং পথের ধারে লুকানো ৫১০০ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়।


প্রশাসনের অভিযানের কারণে লুটের কৌশল পাল্টেছে। এবার নিলামকে হাতিয়ার করে কানাইঘাটের লোভা নদী এবং জৈন্তাপুরের ভারত সীমান্তঘেঁষা পর্যটনকেন্দ্র রাংপানিতে পাথর লুট হচ্ছে। নদীর দুই পাড়ে বসানো বাল্কহেড, খননযন্ত্র ও ক্রাশার মেশিন দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিক পাথর উত্তোলন করছে। যদিও সরকার ২০২০ সালে এই কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করেছিল।


স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নিলামে বিক্রি হওয়া পাথর সরানোর আড়ালে নতুন করে নদী থেকে পাথর তোলা হচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতারও সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।


এদিকে কোম্পানীগঞ্জে চলছে ফের বালুখেকোদের তাণ্ডব, প্রতিদিন শতাধিক নৌকা দিয়ে প্রায় ৩/৪ লাখ ফুট বালু লুট চলছে। উপজেলার ধলাই নদীর পাড়ের একটি গ্রামের নামে ঢালারপাড়। যেখানে রয়েছে একটি বাজার, কবরস্থানসহ মানুষের ঘনবসতি। সোমবার (১৮ আগষ্ট) থেকে সেখানে চলছে বালু খেকোদের তাণ্ডব। আজ মঙ্গলবার (১৯ আগষ্ট) সরেজমিন পরদির্শনে একই চিত্র দেখা গেছে। শতাধিক স্টিল নৌকা দিয়ে ঢালারপাড় গ্রামের কবরস্থান,চক বাজার ও গ্রাম গিলে খাচ্ছে বালু লুটপাটকারীরা। লুটপাটে আলফু বাহিনীর (সাবেক চেয়ারম্যান) লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ে বাহিনীর হয়ে যারা সক্রিয়-তাঁরা হলেন, ঢালারপাড় গ্রামের উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু বক্কর, বিএনপি নেতা হান্নান খন্দকার, উপজেলা যুবলীগ সদস্য তোফাজ্জল হোসেন, পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর মিয়া, যুবলীগ নেতা আলী আব্বাস, কাঁঠাল বাড়ির শওকত আলী, উপজেলা শ্রমিকদলের সহসভাপতি মানিক মিয়া,আওয়ামীলীগ নেতা মাসুক চৌধুরী, বাবুল মিয়া, সফর আলী, শাহিন, রুস্তম আলী।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad