মৌলভীবাজারে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ‘হারপিক’ খাইয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

মৌলভীবাজারে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ‘হারপিক’ খাইয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২৫/০৬/২০২৬ ২০:১৬:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে জোরপূর্বক ‘হারপিক’ (টয়লেট ক্লিনার) খাইয়ে হত্যাচেষ্টা এবং দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার এক নৃশংস অভিযোগ উঠেছে প্রবাসী স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। বন্ধ হয়ে গেছে সন্তানদের লেখাপড়াও।


এই নির্মম ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী মোছাঃ রেসমা আক্তার জুই (মামলা নং- ১৯৫/২৬ (কমল))।


আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার সিংরাউলি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী রেসমা আক্তার জুইয়ের সাথে দীর্ঘ ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল একই এলাকার প্রবাসী মুবিন খানের (৪৭)। তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে সাহারা খানম মিম (১৩) নামে একটি মেয়ে এবং ফাহাদ খান (৭) নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই সংসারে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতন চলছিল। এরই একপর্যায়ে রেসমা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় তাকে জোরপূর্বক বিষাক্ত হারপিক খাইয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হলেও, সুস্থ হওয়ার পর দুই সন্তানসহ তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।


আদালতে দায়েরকৃত মামলায় নির্যাতিতার স্বামী মুবিন খানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া এই নৃশংসতায় সহযোগিতা ও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে আরও ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।


মামলার আসামিরা হলেন, প্রধান আসামি: মুবিন খান (৪৭) – স্বামী। অন্যান্য আসামি: মানিক মিয়া (৫৫), মোজাম্মেল হক মুন্না (৩০), মখলিছ মিয়া (৪৮) এবং মুনায়েম খান (৫০)।


বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে অসহায় রেসমা আক্তার জুই এখন তার দুই সন্তানকে নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। একদিকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শারীরিক অসুস্থতা, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।


পারিবারিক এই বর্বরতার সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে নিষ্পাপ দুটি শিশু। মায়ের এই অসহায়ত্ব ও আকস্মিক স্থানান্তরের কারণে ১৩ বছরের কিশোরী মেয়ে সাহারা খানম মিম এবং ৭ বছরের ছোট ছেলে ফাহাদ খানের পড়ালেখা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।


ভুক্তভোগী স্ত্রী রেসমা আক্তার জুই বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছরের সংসার এভাবে ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে এবং গর্ভস্থ সন্তানসহ নিজের জীবননাশের চেষ্টা করা হবে—তা ভাবতেও পারছি না।


সামাজিক ও আইনিভাবে এই বর্বরতার সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের ও সন্তানদের আইনি অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় এই নারী। মামলাটি বর্তমানে আদালতে আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


মীর্জা ইকবাল/ তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad