সংসদে মুজিবুর রহমান এমপির প্রস্তাব
পর্যটন মাস্টার প্ল্যান ও শমশেরনগর সড়ক প্রশস্ত করার দাবি
মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, চা-শিল্পের সংকট এবং পর্যটন খাতের বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ অঞ্চলকে ঘিরে একটি সমন্বিত পর্যটন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন তিনি।
এমপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ দেশের ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এবং এখানে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত ও বাইক্কা বিলের মতো বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি শ্রীমঙ্গল-শমশেরনগর-কমলগঞ্জ হয়ে চাতলাপুর সীমান্ত পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত করার দাবি জানান, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ৫০ শয্যার হাসপাতাল দুটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। চা-শিল্পের কথা টেনে তিনি বন্ধ হয়ে যাওয়া চা নিলাম কেন্দ্র পুনরায় চালু এবং চা শ্রমিকদের জীবনমান ও মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া তিনি পাহাড় কেটে অপরিকল্পিত রিসোর্ট নির্মাণ ও রেলওয়ের জমি দখলের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং পুরোনো রেললাইন সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এখন তাঁর এলাকার মানুষের প্রধান দাবি বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন। স্পিকার তাঁর বক্তব্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।
বর্তমানে সংসদ সদস্যের এই বলিষ্ঠ অবস্থান শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জবাসীর মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে মৌলভীবাজার জেলা দেশের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোনে পরিণত হবে। এলাকার সচেতন মহল দ্রুত এই উন্নয়ন প্রস্তাবনাগুলোর প্রশাসনিক অনুমোদন ও কাজ শুরুর প্রত্যাশা করছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: