মৌলভীবাজারে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে বিক্ষোভ, হাসপাতালে সেবা বন্ধ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে চা–শ্রমিকদের ভোগান্তি বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পর্যন্ত হাসপাতালে রোগীদের ভিড় থাকলেও সেবা না পেয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে রোগীদের।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে শমশেরনগরের ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐশী রবিদাস (১৪) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। সে শমশেরনগর চা–বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মাথাব্যথা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
মৃত্যুর পর স্বজন ও স্থানীয় চা–শ্রমিকরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন। এ অভিযোগে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা হাসপাতালে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা চিকিৎসক ও কর্মীদের অবরুদ্ধ করেন এবং ভাঙচুর চালান। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা দায়িত্বরত চিকিৎসকের অপসারণও দাবি করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তার কারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্সরাও হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
এরপর থেকেই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে। হাসপাতাল খোলা থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না। এতে চা–শ্রমিকদের উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে।
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটি ডানকান ব্রাদার্সের অধীন বিভিন্ন চা–বাগানের শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিল।
চা–শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, মৃত্যুর কারণ তদন্ত, দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালু এবং অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে।
ডানকান ব্রাদার্সের উপমহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক না থাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: