৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
সিলেট ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের সাথে সমঝোতা না হওয়ায় হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা টানা ৩২ ঘণ্টা ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের দাবি— হাসপাতাল প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে না পারলে তারা তাদের ডিউটি শুরু করবে না।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কর্মবিরতিতে থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান। তিনি জানান, মূলত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সমাধান না আসায় কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন,“আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে, আমরা এটি প্রত্যাহার করিনি। কারণ, হাসপাতাল প্রশাসন এখনও আমাদের আশ্বাস দিতে পারেনি যে তারা চিকিৎসকদের জন্য নিরাপত্তা বাড়াবে বা কত পরিমাণ ফোর্স দেবে। আজ সকাল ১০টার দিকে আবারও প্রশাসনের সাথে বৈঠক রয়েছে। আশা করি বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত আসলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করতে পারে।”
রবিবার সকালে কর্মবিরতিতে থাকা চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফা প্রশাসনের সাথে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
গত শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে হাসপাতালের এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে হাসপাতাল প্রশাসন কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫),একই গ্রামের শিমুল আহমদের স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২), ছাতক থানাধীন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “হাসপাতালের প্রশাসন থেকে তিনজনের নাম উল্লেখ করে জিডি করা হয়েছে। আটক তিন আসামিকে আমরা ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করেছি।”
অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, “হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। আশা করছি দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যাবে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: