তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত
জগন্নাথপুরের কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে
টানা দুই দিনের বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দিয়ে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার থেকে টানা তিন দিন ধরে থেমে থেমে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হচ্ছে এবং আজ শুক্রবারও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে নরজুর ও মাগুরাসহ কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ইতিমধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী আশারকান্দি, পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারসহ তৎসংলগ্ন নিচু এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাইলগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব জালালপুর গ্রামে বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রবল বেগে ভেতরে ঢুকছে। এছাড়া খানপুর, জালালপুর ও পুরাতন আলাগদি এলাকার বেড়িবাঁধগুলো বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজার ও রানীনগরসহ বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা শতাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এই বন্যায় উপজেলার মানুষের মনে ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি ও আতঙ্ক নতুন করে তাড়া করে ফিরছে।
পূর্ব জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা শিপন আহমদ জানান, তাদের গ্রামের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রবেশ করছে। এমনকি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বাড়িঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ বলেন, "আমাদের বাজারের প্রধান গলি এবং দোকানপাটে কুশিয়ারা নদীর পানি ঢুকে ইতিমধ্যে হাঁটু পানি হয়ে গেছে। এতে বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।"
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, যেহেতু আগে থেকেই বন্যার পূর্বাভাস ছিল, তাই সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ তিনজনকে দায়িত্ব দিয়ে একটি কন্ট্রোল রুম (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দোলন মিয়া/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: