গুচ্ছ কবিতা
মনোয়ার পারভেজ এর কবিতা ‘বেহাত বিপ্লব ও অন্যান্য’
বেহাত বিপ্লব
*
শুনো, একটি দুঃখীনি রাষ্ট্রের গল্প বলি
যেন পিছু ছাড়ছেই না তাকে যন্ত্রণাগুলো
তার উপর বইছে একের পর এক অত্যাচার
একটার পতন হলে জুড়ে বসে আরেক স্বৈরাচার!
রাষ্ট্রের মানুষগুলোর এই দিবানিশি দুখ
তাদের উপর পড়েছে শকুনের অশুভ চোখ
মা জননীর চির দুঃখীনি মুখ
কবে? কিভাবে কাটিয়ে উঠবে এই শোক?
তার রূপের কথা যদি বলি—কী নেই তার?
চিরহরিৎ ফসলের মাঠ, আহা কি চমৎকার!
তবুও দেখি হায়নার দল এসে করে শাসন
শাসক পাল্টায়, তবু পাল্টায় না শোষণ।
মুক্তি হলো রাষ্ট্রের, গড়া হলো নতুন দেশ
ভেবেছিলাম এবার বুঝি আর্তনাদের দিন হবে শেষ
কথা ছিল তোমাকে পেলে ভুলে যাব ব্যথা সব
তবুও কেন কষ্ট বুকে লিখতে হয় বেহাত বিপ্লব?
মনে রেখো যেন
*
এই শহরের নীল অপরাজিতার দলে
তারাও ছিল তোমাদের মিছিলে
হৃদয়ের কথা বলছি যদি শুনো
তাদের কথা তোমরা মনে রেখো যেন।
পিছুপা হয়নি যারা শত্রুর রক্তচক্ষু দেখে
ভালোবেসে নিয়েছে তারা বুলেট বুকে
ভুলে যেন যেও না তাদের ত্যাগের কথা
শহীদের স্মৃতি যেনো থাকে হৃদয়ে গাঁথা।
কখনও ভেবো না তারা নেই
তারা বেঁচে রবে তোমাদের মাঝেই
দূর হতে তারা চেয়ে রবে
তারা তো ফিরবে সন্ধ্যাতাঁরার সাঁঝেই।
সালাম থেকে সাইদের পথ ধরে
কত শহীদের নাম হয়েছে যোগ
জানি একটুখানি বেখেয়ালি হলেই
তোমাদের পেয়ে বসে ভুলে যাওয়ার রোগ।
ভাঙা হৃদয়ে
*
ভাঙা হৃদয়ে করুণ হাহাকার
ছিম ছিম ব্যথায় ধড়ফড় করে ওঠে বুক,
উপশম পেতে চলে অস্ত্রোপচার
দেহকে ডাকে অপারেশন থিয়েটার।
তবুও বরাবরের মতো ব্যর্থ হয়ে
কিছুটা পথ পেরিয়ে গল্প রচিত হয় হৃদয় ভাঙার,
আপনাআপনি নয়, আসলে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়
তখনই খবরে ছাপতে হয় শপথ ভাঙার ইশতেহার।
একটা হৃদয়ে কয়বার ভাঙচুর হলে
সে হৃদয়ে আর ভাঙার সাহস দেখাবে না কেউ?
একটা হৃদয়ে কতবার অস্ত্রোপচার চলে
যে হৃদয়ে প্রতিনিয়ত জাগে প্রেম-দ্রোহের ঢেউ।
এ হৃদয় বুকে নিয়ে বয়ে বেড়াই
আমি আর আমার প্রিয় স্বদেশ।
অন্তর্বর্তীর দিনলিপি
*
কথিত বাকস্বাধীনতার কথা বলে
আমাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়
অবমাননার দোহাই দিয়ে!
ফুস করে চেতনাদণ্ড পিছু নেয় উদ্ভট দাড়িয়ে।
আমাদেরকে বলা হয়,
আপনারা মন খুলে সমালোচনা করুন
একথা বলে ওৎ পেতে থাকে মব
উপর থেকে চেয়ে থাকে আন্তর্জাতিক শকুন।
দোসর-দোসর খেলায় উর্বর হয়েছে আবাদ,
নতুন বন্দোবস্তের নামে দেখি পুরোনো ফ্যাসিবাদ।
নয়া চেতনা ব্যবসায়ীদের আস্ফালনে
অভ্যুত্থান গেছে বিপ্লবীকে নিয়ে ভোজনে।
গাজর চাষের চেতনা দিয়ে
আসলে হয়েছে মুলার চাষাবাদ।
সাম্রাজ্যবাদের মদদে নাকি কৌশলে?
দেখেছি কিভাবে প্রশ্রয় পেয়ে উঠেছে উগ্রবাদ!
কথার সাথে নেই কোনো কার্যকলাপ
প্রতিদিন কতো শুনি সংস্কারের প্রলাপ!
আমাদের জমেছে না বলা পাণ্ডুলিপি
তবু ইতিহাসে লেখা হয় অন্তর্বর্তীর দিনলিপি।
আর আর
মন্তব্য করুন: