ভার্চুয়াল টকশোতে দেশ ত্যাগের অভিজ্ঞতা প্রকাশ
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন দেশেই ছদ্মবেশে আত্মগোপন ছিলেন ৮ মাস
২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া এবং ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র–জনতার ওপর হামলা ও গুলি বর্ষণ মামলার আসামি ড. এ কে আব্দুল মোমেন সম্প্রতি আত্মগোপন, ছদ্মবেশ এবং দেশ ত্যাগের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সুলতানা রহমানের সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল টক শোতে ড. মোমেন জানান, সরকার পতনের পর গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তিনি দেশের মধ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছদ্মবেশে অবস্থান করতেন। তিনি বলেন, “আট মাস ধরে আমি বিভিন্ন ভাড়া বাসায় অবস্থান করেছি। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে না থাকায় নিরাপদ থাকার জন্য বিদেশি ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত বাসাগুলো ব্যবহার করেছি।” এ সময় তিনি ছয়বার মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন করেছেন এবং নিজের চেহারাও পরিবর্তন করেছেন।
ড. মোমেন উল্লেখ করেন, পরে তিনি গোপন পথে যুক্তরাষ্ট্রে যান, যেখানে বর্তমানে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক আগে আমি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম এবং কিছুদিন আগে দেশে ফেরার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে আমাকে আবারও আত্মগোপনে যেতে হয়েছিল।”
তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী সেলিনা মোমেনই যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া দেশে আত্মগোপন ও দেশ ত্যাগের পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারি পর্যায়ের কিছু লোকের সহযোগিতা পাওয়া গেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়েননি এবং প্রস্থান পথের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন।
ড. মোমেন শেষবারে বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম বা অপরাধে জড়িত ছিলাম না। এই সময়কালকে আমি ‘একটি সিনেমার গল্পের মতো’ অভিজ্ঞতা মনে করি এবং নিজেকে দেশ ছাড়াদের মধ্যে শেষ দিকের একজন হিসেবে বিবেচনা করি।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: