শাবিপ্রবি ছাত্রীকে ধর্ষণ
শান্ত ও পার্থর ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের ঘটনায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আজ রবিবার (২২ জুন) তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ আহসান হাবিব। তিনি বলেন, ‘রবিবার রিমান্ড শুনানি হয়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) অভিযান চালিয়ে শান্ত তারা আদনান (২৩) ও স্বাগত দাস পার্থকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজনই শাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে সিলেটের কোতোয়ালি মডেল থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় আদনান ও পার্থর নাম উল্লেখ করে আরো তিনজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।
গত ২ মে সন্ধ্যায় সহপাঠী শান্ত তারা আদনান ও স্বাগত দাস পার্থর সঙ্গে শহরের কনসার্টে যাচ্ছিলেন ওই ছাত্রী। সেখানে যাওয়ার আগে তারা ওই ছাত্রীকে সুরমা এলাকার একটি মেসে নিয়ে যান। এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে অচেতন করে ধর্ষণ করেন আদনান ও পার্থ।
একই সঙ্গে ঘটনার ভিডিও এবং স্থিরচিত্র ধারণ করেন তারা। পরে এসব ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করছিলেন। ঘটনা প্রকাশ করলে ভিডিও ও ছবি অনলাইনে ছেড়ে দেওয়ারও হুমকি দেন তারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ আদনান ও পার্থকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনা শেষে তাদের থানায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
এদিকে ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমানকে প্রধান করে শনিবার এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: