মৌলভীবাজারে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় অ্যান্টিভেনম সংকট
Led Bottom Ad

বাড়ছে জীবনহানির ঝুঁকি

মৌলভীবাজারে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় অ্যান্টিভেনম সংকট

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২২/১১/২০২৫ ১৮:৩১:৩৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার জেলায় সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় অ্যান্টিভেনম সংকট ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি মাসে গড়ে ৪০ জন রোগী ভর্তি হলেও প্রয়োজনের তুলনায় প্রতিষেধকের সরবরাহ অত্যন্ত কম। কোথাও আবার অ্যান্টিভেনম মজুত থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে তা ব্যবহার করতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা—ফলে রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা ৪১০ জন, কিন্তু অ্যান্টিভেনম পেয়েছেন মাত্র ২১ জন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমপক্ষে ২০ ভায়েল অ্যান্টিভেনম থাকার কথা থাকলেও অনেক হাসপাতালে রয়েছে মাত্র ১০ ভায়েল। বর্তমানে পুরো জেলায় অ্যান্টিভেনমের মজুত মাত্র ৯০ ভায়েল, যা প্রয়োজনের মাত্র ২২ শতাংশ।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, অ্যান্টিভেনমের দাম অত্যন্ত বেশি হওয়ায় একসঙ্গে বেশি পরিমাণ মজুত রাখা সম্ভব হয় না। আবার উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের অভাব থাকায় অনেক সময় প্রতিষেধক থাকা সত্ত্বেও তা রোগীদের প্রয়োগ করা যাচ্ছে না, যা চিকিৎসায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি ২৩ অক্টোবর কমলগঞ্জের ফুলবাড়ি চা বাগানে গ্রিন পিট ভাইপারের কামড়ে আহত হন চা শ্রমিক মাধবী মির্ধা (২৫)। হাসপাতালে নেওয়ার পর এক ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় এবং চিকিৎসাগত জটিলতার অজুহাতে তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, সাপে কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার আগে সাপটি বিষধর কি না নিশ্চিত করা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণে ৩০–৪০ মিনিট সময় লাগে। এছাড়া বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকরাই কেবল অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করতে পারেন—ফলে জরুরি চিকিৎসায় বিলম্ব ঘটছে।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অ্যান্টিভেনম আছে, তবে চাহিদার তুলনায় কম। দাম বেশি হওয়ায় পর্যাপ্ত মজুত রাখা সম্ভব হয় না। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি—প্রতিটি হাসপাতালে অন্তত দুজন রোগীর জন্য ভায়েল প্রস্তুত রাখতে। অনলাইনে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে, তাই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

অ্যান্টিভেনম সংকট এবং প্রশিক্ষিত জনবল ঘাটতি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন জেলার সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় দ্রুত প্রতিষেধক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হয়ে উঠবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad