সেবা তত্বাবধায়ক বরাবরে নার্সদের অভিযোগ
নিয়ম ভঙ্গ করে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে সদর হাসপাতালের দুই নার্সের নাম প্রস্তাব
ক্ষমতার দাপটে নিয়ম ভঙ্গ করে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে দুই নার্সের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে কর্মরত নার্সসের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সমাধানে হাসপাতালের সেবা তত্বাবধায়ক বরাবরে একটি অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে-খোদ সেবা তত্বাবধায়ককে বিষয়টি অবগত না করে নার্সিং কর্মকর্তা সঞ্চিতা হালদার ও বিএনএ সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ নিজেদের ক্ষমতাবলে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের মধ্য দিয়ে এই কাজটি সম্পন্ন করেন।
চলতি মাসের ১০ অক্টোবর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের অধিক্ষক বরাবরে কর্তব্যরত নার্সদের লিখিত এক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিগত দিনে হাসপাতালে যাবতীয় বিশেষায়িত, স্থানীয় প্রশিক্ষণে নার্সিং কর্মকর্তাগনের নাম যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পর্যায়ক্রমে পাঠানো হয়, কিন্তু গত ০৬/১০/২০২৫ইং তারিখ, নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরের জেরিয়াট্রিক প্রশিক্ষণের স্বারক নং ৪৫.০৩.০০০.০০৮.১৪.১৬৯.২৫ (পার্ট-২)৮৫৯ আদেশে যে দুই জন নার্সিং কর্মকর্তার নাম এসেছে উক্ত নামগুলো অফিসের অনুমতি ব্যতিরেকে হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তা সঞ্চিতা হালদার মুঠোফোনে নাম প্রস্তাব পাঠিয়ে দেন যেখানে অন্য দুজন কর্মকর্তার নাম অফিস থেকে ২০২২ ইং সালে পাঠানো হয়েছিল যারা ইতিপূর্বে কোন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন নি। এতে আরো বলা হয়, অত্র হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, নার্সিং উপসেবাতত্বাবধায়ক, সুপারভাইজার, এমনকি অফিসের কোন কর্মকর্তার অজ্ঞাতসারে প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এভাবে নাম প্রেরণ, পরিবর্তন করার বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক এবং বেআইনী।
অভিযোগকারী নার্সরা জানান, অভিযুক্ত নার্সিং কর্মকর্তা সঞ্চিতা হালদার ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণে নাম প্রেরণে উনার সম্পৃক্ততার বিষয়টি আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং নার্সিং উপসেবাতত্বাবধায়ক এর সম্মুখে স্বীকার করেছেন এবং এতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল হাসাপাতালের নার্সিং কর্মকর্তা সোহেল আহমদ, নার্সেস এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক এর আদেশে করেছেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনার সাধারণ নার্সিং কর্মকর্তাগণের মধ্যে একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের মতে, কর্তৃপক্ষকে উপেক্ষা করে এমম অনিয়ম কীভাবে সম্ভব ? তাদের মতে এই ঘটনা নি: সন্দেহে যাবতীয় প্রশাসনের জন্য অসৌজন্যমূলক ও হুমকিস্বরূপ।
অভিযোগের বিষয়ে নার্সিং কর্মকর্তা সঞ্চিতা হালদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায় নি।
অভিযোগনামায় স্বাক্ষরকারীদের অন্যতম সদর হাসপাতালের সাব্বির আহমদ বলেন, অবশ্যই এই ঘটনার মধ্য দিয়ে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে নার্সের নাম চূড়ান্ত করতে হলে সেটি হাসপাতালের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে অধিদপ্তরে পাঠানোর বিধান রয়েছে। কিন্তু অনৈতিক সুবিধা আদায় করার মাধ্যমে নিয়ম লঙ্ঘন করে পরিকল্পিতভাবে এই কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে- যা সরকারি নিয়ম নীতি পরিপন্থী।
তবে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, নার্সিং অধিদপ্তর পাঠানো চিঠিতে প্রশিক্ষণের জন্য যে দুইজন নার্সের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, তাদেরকেই পাঠানো হয়েছে। এর বাহিরে কোন অনিয়ম ঘটলে সেটি আমার দেখার বিষয় নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপসেবা তত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) সেলিনা আক্তারের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় মন্তব্য আদায় করা সম্ভব হয় নি।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: