বৈছাআ’র দখলে সিসিকের ‘পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার’
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দখলে এখন সিলেট সিটি করপোরেশেনের ‘পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার’। নগরীর সারদা হল সংলগ্ন তোপখানা রোডে সিসিকের পুরনো ৫ম তলা ভবনে পরিবহন শাখা ও শিক্ষা শাখার কার্যক্রম চলে আসছে। এই ভবনের তৃতীয় তলায় সিসিক পরিচালিত একমাত্র পাঠাগার। এখন যেটি অবৈধভাবে নিজেদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনের জেলা ও মহানগর শাখার কার্যক্রম চলছে এই ভবনে। সংগঠনে রয়েছে দুটি গ্রুপ। একটি গ্রুপ চলে গেলে প্রতিপক্ষ গ্রুপও একই ভাবে লাইব্রেরিকে অফিস ভেবেই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম।
অভিযোগ শুধু লাইব্রেরি বা হলরুম দখলের নয়, প্রধান লাইব্রেরিয়ানের একটি কক্ষও ব্যবহার করছেন সংগঠনের দায়িত্বশীলরা। ফলে লাইব্রেরি ভবনে রাতে-বিরাতে চলেছে আড্ডা ও হৈ হুল্লুর। এমনকি সংগঠনের এক নারী সদস্যের উপর শ্লীলতাহা্নীর অভিযোগও উঠেছে এই ভবন থেকে। লাইব্রেরি দখল করে একটি সংগঠনের যথেচ্ছ ব্যবহার ওই ভবনে কর্মরত সিসিকের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীর পীড়া ও বিরক্তির কারণ হলেও বড় কর্তারা নিচ্ছেন না কার্যকর পদক্ষেপ। ‘ভয়’ নামক শব্দটিতে আটকে আছে কর্মকর্তাদের সকল দাপট। তবে সাধারণ পাঠকরা এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চান। তাদের দাবি-নিয়মিত লাইব্রেরিতে আসা হলেও এখন প্রায় সাড়ে ৪ মাস থেকে লাইব্রেতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ হিসেবে তাদের দাবি-পাঠাগার একটি শান্তি এবং শৃঙ্খলার জায়গা। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই।
জানা যায়, সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বরেণ্য রাজনীতিবিদ পীর হবিবুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত এই পাঠাগারে রয়েছে সব ধরনের পত্রিকা ও ম্যাগাজিন। রয়েছে ১০ হাজারে অধিক বই। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত যে কেউ বিনামূল্যে এসব পত্রিকা ও বই পড়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিসিকের পরিবহন ও শিক্ষা শাখায় কর্মরতরা জানান, তাঁরা শুধুই লাইব্রেরি ব্যবহার করছে না, একই সাথে প্রধান লাইব্রেরিয়ান শাহিদা সুলতানার ৩০২ নাম্বর কক্ষও তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। একই সাথে ভবনের সকল রুমের চেয়ারও যেকোন সময় চলে যায় সংগঠনের দখলে। এরপর চলে রাত-বিরাতে আড্ডা। অফিস টাইমের কোন তোয়াক্কা না করে চলছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কার্যক্রম।
শিক্ষা ও লাইব্রেরি শাখায় কর্মরতরা জানান, এখানে ৫ জন নারী স্টাফ কাজ করেন। প্রায় প্রতিদিনই এখানে ৩০ থেকে ৫০ জন ছেলে আসে। কিছুদিন আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেত্রী ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন তাদেরই আরেক নেতার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনাও এই ৩০২ নাম্বার কক্ষে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই এখানে কর্মরত নারী স্টাফরা নিরাপত্তার শঙ্কায় থাকেন সব সময়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবহন ও শিক্ষা শাখায় কর্মরত কয়েকজন বলেন, দুটি পক্ষের যে পরিমাণ মানুষ আসে এখানে সে পরিমাণ চেয়ারও নাই। মাঝে মাঝে বাইরে থেকে চেয়ার ভাড়া করেও আনে তারা। তাদের রুম পরিষ্কার করে দিতে হয়। তাদেরকে চা, পানিও এনে দিতে হয়। ভবনটিতে সিসি ক্যামেরা না থাকলেও সিসিকের দুটি শাখার অনেক নথিপত্র রয়েছে। কোনো অঘটন ঘটলে বা কোনো নথিপত্র গায়েব হলে এর দায় কে নেবে-জানা নেই তাদের।
এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট মহানগর শাখার আহবায়ক দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘আমরা লাইব্রেরিকে লাইব্রেরি হিসেবেই ব্যবহার করছি। যেখানে আমরা মাঝে-মধ্যে বই পড়ি, বসি, কথা বলি। এই ভবনের ৩০২ নং কক্ষে জেলার এক নারী সংগঠক ধর্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শোনেছি ঘটনাটি এখানে ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবে জেলার আহবায়ক।’
জেলা সদস্য সচিব নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায় নি।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, লাইব্রেরি দখল করে কোন সংগঠনের কার্যক্রমের বিষয়টি আজ একটি গণমাধ্যম থেকে শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যথারীতি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: