সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পদায়ন কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, অবরুদ্ধ ১৪ শিক্ষক
সিলেটসহ দেশের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করার দাবিটি দীর্ঘদিনের। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই শিক্ষার্থীরা এ দাবিতে অনশনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি পর্যালোচনায় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি কলেজগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ (আইআইটি) বা সমমানের কাঠামোয় রূপান্তরের সুপারিশ করেছিল এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরও এ বিষয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। কিন্তু পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি—সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধীনে একটি ইনস্টিটিউট হিসেবে গ্রহণ করা। আন্দোলনকারীরা জানান, এ বিষয়ে তাঁরা সম্প্রতি শাবিপ্রবির সহ-উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। সরকারি সিদ্ধান্ত এলে শাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে ইনস্টিটিউট হিসেবে গ্রহণে প্রস্তুত বলে তাঁদের জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিনের এই অমীমাংসিত দাবির মধ্যেই সম্প্রতি কলেজের একটি বিভাগে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার অধীনে নিয়োগ পাওয়া একজন শিক্ষককে সহযোগী অধ্যাপক পদে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পদায়ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের দীর্ঘদিনের আপত্তি ছিল, যা সাম্প্রতিক উদ্যোগের ফলে নতুন করে তীব্র ক্ষোভে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীরা জানান, এটি কেবল একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের আন্দোলন।
এই ক্ষোভের জের ধরে গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষক এবং কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী (সর্বমোট অন্তত ২০ জন) ভেতরে আটকা পড়েন। রাত সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত ছিল। শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কলেজকে মুক্ত করার প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বের হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাবসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন তাঁরা।
পরিস্থিতির মধ্যে রবিবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে কলেজের অধ্যক্ষ পদে রদবদল আনা হয়। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেটের নতুন অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে এই বদলিকে আন্দোলনের সমাধান হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা—মূল দাবি আদায় সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেওয়া হবে না এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
বর্তমানে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অবরুদ্ধ দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: